অভিযোগহীন কারাবন্দিত্বের ৫০০ দিন অতিক্রান্ত, ফিলিস্তিনি চিকিৎসকের মুক্তি আবেদন খারিজ করল ইসরায়েলি আদালত

ফিলিস্তিনি চিকিৎসক ও কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক হুসাম আবু সাফিয়াকে বিনা বিচারে দীর্ঘ ৫০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্দি রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার তার মুক্তির আবেদন পুনর্বার নাকচ করে দিয়েছে। তথাকথিত ‘বেআইনি যোদ্ধা আইন’-এর আওতায় কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তাকে নফহা কারাগারে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে।
ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস ইসরায়েল (পিএইচআরআই)-এর তথ্য মতে, কারাবন্দি এই চিকিৎসককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তার আইনজীবী নাসের ওদেহ জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আদালতে শুনানির সময় তাকে অত্যন্ত রুগ্ণ দেখাচ্ছিল এবং তার শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। উত্তর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির নির্দেশ উপেক্ষা করে নিজ রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকার অপরাধেই মূলত তাকে বন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর প্রিজনার্স অ্যাডভোকেসি এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কোনো প্রকার অভিযোগ বা আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া ছাড়াই একজন চিকিৎসকের আটকাদেশ নবায়ন করাকে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে তারা হুসাম আবু সাফিয়ার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেড ক্রস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
পিএইচআরআই-এর প্রিজনারস অ্যান্ড ডিটেইনিজ বিভাগের পরিচালক নাজি আব্বাস এই পরিস্থিতিকে নৈতিক ও আইনি বিপর্যয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের এই রায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে একটি অমানবিক ও অনির্দিষ্টকালের কারাবাসকে বৈধতা দিয়েছে, যেখানে একজন অসুস্থ চিকিৎসককে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আটকের পূর্বে হুসাম আবু সাফিয়া গাজার স্বাস্থ্যখাত ও হাসপাতালের ওপর চলমান হামলার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন। এর আগে, হাসপাতালের গেটে ইসরায়েলি ড্রোনের আঘাতে তার ছেলে ইব্রাহিম নিহত হলে তিনি শোকার্ত অবস্থায় তার জানাজায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা বিশ্ববাসীর বিবেককে নাড়া দিয়েছিল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা