AdvertisementAdvertisement

সুদানে ড্রোন হামলায় পাঁচ মাসে হাজারো সাধারণ নাগরিক নিহত

সুদানের চলমান রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে ড্রোন হামলার ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে এক হাজারেরও বেশি সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া এক ভাষণে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সুদানের সংঘাত কেবল বিস্তৃতিই লাভ করেনি, বরং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এর নৃশংসতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধে কেবল সাধারণ মানুষের প্রাণহানিই ঘটছে না, বরং সেখানে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের মতো অপরাধও মহামারী আকার ধারণ করেছে। রাজধানী খার্তুম থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত বর্তমানে সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। সুদানের সেনাবাহিনী প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের কমান্ডার মোহাম্মদ হামদান হেমেদতি দাগালোর মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্বই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, সুদান বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবমতে, দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এর বাইরে ২ কোটি মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন এবং প্রায় ২ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে দিনাতিপাত করছে। নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের তথ্যমতে, এই যুদ্ধে অন্তত ৫৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যদিও অন্যান্য পর্যবেক্ষক সংস্থার দাবি অনুযায়ী এই সংখ্যা ১ লক্ষ ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভলকার তুর্ক বলেন, উভয় পক্ষই একে অপরের কৌশল মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। এই প্রবণতা অনেক সময় ড্রোন বনাম ড্রোন যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিও তৈরি করছে, যা যুদ্ধের ভয়াবহতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র কোনোভাবেই যুদ্ধাপরাধ বা নৃশংসতাকে বৈধতা দেওয়ার হাতিয়ার হতে পারে না।

সুদানের এই সংঘাতকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম নিদর্শন হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ। জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত হত্যাকাণ্ড এবং ব্যাপক হারে যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল বলে গণ্য করা হচ্ছে। ক্রমাগত পরিবর্তনশীল যুদ্ধের এই নতুন ধরন আন্তর্জাতিক মহলে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থার কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%