AdvertisementAdvertisement

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গণভোটের মুখোমুখি সুইজারল্যান্ড: ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের অনিশ্চয়তা

সুইজারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা এক কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যে দেশটির ডানপন্থী দল সুইস পিপলস পার্টির (এসভিপি) উত্থাপিত একটি বিতর্কিত গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রস্তাব পাস হলে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দেশটির মুক্ত চলাচল চুক্তিসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রবিবারের এই ভোটাভুটির ফলাফল স্থানীয় সময় দুপুর নাগাদ পাওয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত এই সাংবিধানিক পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো ২০৫০ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা কোনোভাবেই এক কোটির সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। সরকারি প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বর্তমান ধারায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের দশকের শুরুর দিকেই দেশটি এই মাইলফলক স্পর্শ করবে। অভিবাসন চাপ, আবাসন সংকট এবং জনসেবা খাতের ওপর অতিরিক্ত চাহিদাকে এই উদ্যোগের কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে এসভিপি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তবে সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল সরকার এবং দেশটির পার্লামেন্ট এই ধারণার ঘোর বিরোধী। সমালোচকদের মতে, গত কয়েক দশকে সুইজারল্যান্ডের স্বাস্থ্যসেবা, অর্থায়ন, ওষুধ শিল্প এবং প্রযুক্তি খাতের বিকাশে বিদেশি শ্রম ও দক্ষ কর্মীরা অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সুইজারল্যান্ডের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায়, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলে ব্রাসেলসের সঙ্গে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সুইজারল্যান্ডের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষ নাগাদ দেশটির জনসংখ্যা বেড়ে ৯১ লাখে পৌঁছেছে, যা ২০০২ সালের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ শতাংশ। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার ৩২ শতাংশই বিদেশি বংশোদ্ভূত, যা উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অত্যন্ত উচ্চ হার।

যদি জনসংখ্যা ২০৫০ সালের আগেই ৯৫ লাখে পৌঁছে যায়, তবে সরকার আইনত কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক আশ্রয়, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং বসবাসের অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নাগরিকদের মুক্ত চলাচল বিষয়ক চুক্তিটি বাতিল করার মতো চরম সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে, যা দেশটির বর্তমান জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%