বিশ্বজুড়ে এখনো শিশুশ্রমে আবদ্ধ ১৩ কোটি ৮০ লাখ শিশু, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ৫ কোটি ৪০ লাখ

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং ইউনিসেফের প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে শিশুশ্রমের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। বর্তমানে বিশ্বে আঠারো বছরের কম বয়সী প্রায় ২৪০ কোটি শিশুর মধ্যে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লক্ষ শিশু শ্রমের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে ৫ কোটি ৪০ লক্ষ শিশু এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘ ২০১৫ সালে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্ব থেকে শিশুশ্রম নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। যদিও সামগ্রিকভাবে শিশুশ্রমের হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবুও শ্রমজীবী শিশুদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে দুইজন এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছে। বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শ, বিপজ্জনক যন্ত্রপাতি পরিচালনা এবং দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম তাদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ফলে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আটকা পড়ছে, যা বংশপরম্পরায় বয়ে চলছে।

আল জাজিরার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বের মোট শিশুশ্রমের ৬১ শতাংশই কৃষিখাতে কেন্দ্রীভূত। প্রায় ৮ কোটি ৪০ লক্ষ শিশু খামার, মৎস্য আহরণ, বনজ সম্পদ এবং গবাদিপশু পালনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। পশ্চিম আফ্রিকা থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়ার ধানের খেত পর্যন্ত—কৃষিখাতে শিশুশ্রমের ব্যাপক উপস্থিতির মূল কারণ হলো এই খাতের অনানুষ্ঠানিক প্রকৃতি এবং পারিবারিক বাধ্যবাধকতা, যা কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা কঠিন।

কৃষির বাইরে সেবা খাতে ২৭ শতাংশ এবং শিল্পকারখানা, খনি ও নির্মাণ শিল্পে ১৩ শতাংশ শিশু শ্রম দিচ্ছে। সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলটি বর্তমানে এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে ৮ কোটি ৭০ লক্ষ শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যা বিশ্বের বাকি অংশের মোট যোগফলের চেয়েও বেশি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সংঘাত এবং অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা গত কয়েক বছরের অর্জিত সাফল্যকে ম্লান করে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইউনিসেফের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কেবল প্রশিক্ষণ বা আইনি প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা, মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ এবং দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য টেকসই জীবিকার সংস্থান। দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সরকারি কার্যকর পদক্ষেপের সমন্বয় ছাড়া শিশুদের এই শোষণ থেকে মুক্তি দেওয়া অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%