থাইল্যান্ডের রাজকুমারী বাজরাকিতিভাপা ৪৭ বছর বয়সে পরলোকগত

দীর্ঘ তিন বছর কোমায় থাকার পর শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন থাইল্যান্ডের রাজকুমারী বাঝরাকি তিয়াভা মাহিদল। ৪৭ বছর বয়সে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে শুক্রবার রাজকীয় প্রাসাদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘ অসুস্থতার লড়াই শেষে তাঁর এই চিরবিদায় পুরো থাইল্যান্ডে শোকের ছায়া ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন

রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সাত সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন রাজকুমারী বাঝরাকি তিয়াভা। আইন পেশায় উচ্চশিক্ষিত এবং জনসেবায় নিবেদিতপ্রাণ এই রাজকন্যা থাই জনগণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে নারী বন্দিদের পুনর্বাসন ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে তাঁর চালু করা ‘কামলাংজাই’ বা ‘অনুপ্রেরণা’ কর্মসূচি তাঁকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজকুমারী বাঝরাকি তিয়াভা ১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে থাইল্যান্ডের স্থায়ী মিশনের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি অস্ট্রিয়ায় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এবং ২০১৭ সালে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক কার্যালয়ের শুভেচ্ছা দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে নারী বন্দিদের মানবিক অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘের ‘ব্যাংকক রুলস’ গ্রহণে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুদিন চার্নভিরাকুল এক শোকবার্তায় তাঁকে ‘থাইল্যান্ডের গর্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, করুণা, ন্যায়বিচার ও সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠনে রাজকুমারীর যে অদম্য প্রতিশ্রুতি ছিল, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম থাই নাগরিকদের জন্য নৈতিক উত্তরাধিকার ও দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজ পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার কারণেই তিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা ও বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

রাজকুমারীর মৃত্যুর পর এখন থাইল্যান্ডের সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে তাঁর ছোট ভাই ২১ বছর বয়সী দিপংকর রাসমিজোতির নাম সামনে আসছে। জনসম্মুখে খুব কম দেখা যাওয়া এই রাজপুত্রকে ঘিরেই এখন রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ দেখছে দেশটি। এদিকে, রাজকুমারীর মৃত্যুতে শোকাতুর মানুষ ব্যাংককের কিং চলালংকর্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের বাইরে ভিড় করছেন। প্রিয় রাজকন্যাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অনেকে তাঁর প্রতিকৃতি নিয়ে হাসপাতালের আঙিনায় জড়ো হয়েছেন, যেন কোনো এক অলৌকিক সংবাদের অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%