গাজায় চিকিৎসার অভাবে সংকটাপন্ন ১৬ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ অবস্থায় ধুঁকছে

গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের জেরে সেখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি সংকটাপন্ন রোগী চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যেতে চাইলেও ইসরায়েলি বাধার মুখে তা পারছেন না। মূলত অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় চিকিৎসা পাওয়ার পথ রুদ্ধ করে দেওয়ায় অনেক রোগী দীর্ঘসূত্রতার শিকার হয়ে অকাল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি মাহের শামিয়া এ পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলকে সরাসরি দায়ী করেছেন। তার ভাষ্যমতে, রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং দীর্ঘদিন বন্ধ রাখা এবং কারেম আবু সালেম ক্রসিং দিয়ে সপ্তাহে মাত্র একদিন চিকিৎসা সরঞ্জামের সুযোগ দেওয়ার ফলে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। অথচ উপত্যকার ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য অবকাঠামো মেরামত করা গেলে বড় একটি অংশের চিকিৎসা স্থানীয়ভাবেই সম্ভব হতো, যা ইসরায়েলি বাধার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে গাজার সমস্ত ক্রসিং খুলে দেওয়ার এবং নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। গত অক্টোবর মাস থেকে চলা এই ভয়াবহ সংঘাতে প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার জনউন্নয়ন গত ৭৭ বছরে পিছিয়ে গেছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আনুমানিক ৭১০০ কোটি ডলার প্রয়োজন।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো সুরাহা না হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির হয়ে আছে এবং অস্ত্রবিরতি ও ত্রাণ সহায়তা নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে দায় চাপাচ্ছে। ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের সংখ্যা নিয়েও মতপার্থক্য রয়ে গেছে, যেখানে ইসরায়েল তাদের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা প্রবেশের দাবি করলেও হামাস তা অস্বীকার করে আসছে। মিশরে চলমান নতুন দফার আলোচনাতেও সামরিক হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বড় অগ্রগতির সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা