ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৩৭ জনের প্রাণহানি উদ্ধার তৎপরতায় ধীরগতি

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে সরকারি তথ্য থেকে জানা গেছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া জীবিতদের সন্ধানে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের ঠিক আগে সারাঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে এই ভয়াবহ ভূকম্পন অনুভূত হয়।

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেনারেল সান্তোস শহরে ধসে পড়া একটি বাণিজ্যিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে উদ্ধারকাজ চলছে। সেখানে দুজন জীবিত উদ্ধার হলেও আরও দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ স্বজনদের উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকা দিওসলিনদা দেলুভিও নামের এক মা আহাজারি করে বলেন, তার সন্তান ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছে, যা মেনে নেওয়া কঠিন। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, অনেক এলাকা দুর্গম হওয়ায় এবং বারবার পরাঘাতের কারণে উদ্ধারকাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জেনারেল সান্তোস শহরটিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শহরটিকে দুর্যোগ কবলিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সারাঙ্গানি প্রদেশে পাহাড় ধসে চাপা পড়ে অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোতাবাতো, দাভাও অক্সিডেন্টাল এবং বালুত দ্বীপ থেকে আরও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। সারাঙ্গানির অনেক এলাকা এখন কেবল হেলিকপ্টার যোগেই পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।

ভূমিকম্পের ফলে প্রায় ২ হাজার বাড়িঘর এবং ১১৭টি সরকারি ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ৬৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে জরুরি সংস্থাসমূহকে সক্রিয় করা হয়েছে এবং সরকার দুর্গত মানুষের পাশে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক ও সেতুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী দলের জন্য সেখানে পৌঁছানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে রাস্তা থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছেন। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর প্রকৌশলীরা ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ শুরু করবেন। এটি গত আট মাসের মধ্যে ফিলিপাইনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%