AdvertisementAdvertisement

হেনরি নওয়াক হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে চরমপন্থীদের উসকানিতে সাউদাম্পটনে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কা

যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনে ১৮ বছর বয়সী হেনরি নোয়াকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে পুঁজি করে দেশটিতে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নিহতের বাবা মার্ক নোয়াক এমন মর্মান্তিক ব্যক্তিগত বিয়োগান্তক ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার জন্য কঠোর আহ্বান জানালেও, উগ্রবাদীরা তা উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সী ভিকরাম দিগওয়ার হাতে নোয়াকের খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্ণবাদী উত্তেজনা তৈরির অভিযোগ উঠেছে, যদিও শিখ সম্প্রদায় দ্রুততার সাথে এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে।

গত মঙ্গলবার সাউদাম্পটন সেন্ট্রাল পুলিশ স্টেশনের সামনে শত শত উগ্রপন্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন, পরিচিত নাম টমি রবিনসনসহ বেশ কয়েকজন বিতর্কিত নেতার উপস্থিতিতে এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভের সময় অনেককে নাৎসি স্যালুট প্রদর্শন করতে এবং শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গত ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদলের সাথে প্রথম সেমিস্টার শেষের আনন্দ উদযাপনের সময় নোয়াককে পাঁচবার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন ভিকরাম দিগওয়া। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দিগওয়া মিথ্যা দাবি করেছিলেন যে নোয়াক তাকে বর্ণবাদী গালি দিয়েছিলেন, যার ফলে পুলিশ প্রথমে নোয়াককেই সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করেছিল। মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় বারবার শ্বাসকষ্টের কথা বললেও পুলিশ তাকে কোনো সহায়তা করেনি, যা দেশটির পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

শিখ ফেডারেশন ইউকের প্রধান উপদেষ্টা জাস সিং জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাউদাম্পটনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শিখদের ওপর ঘৃণামূলক অপরাধের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে অনেকেই পাগড়ি পরার কারণে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। এমনকি প্রবীণদের সেবা প্রদানকারী কর্মীরাও বর্ণবাদী আচরণের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা সমাজে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ রাজনীতিতে ‘টু-টিয়ার’ বা দ্বি-স্তরীয় পুলিশিং নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সংস্কারপন্থী নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, যুক্তরাজ্যে শ্বেতাঙ্গদের অধিকার সংখ্যালঘুদের তুলনায় অবহেলিত। তবে রানিমেইড ট্রাস্টের শাবনা বেগমসহ অধিকারকর্মীরা এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, বর্ণবাদবিরোধী নীতিগুলো প্রকৃতপক্ষে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি, উল্টো উগ্রবাদীরা এসব ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

নিহতের বাবা মার্ক নোয়াক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তার ছেলের মৃত্যু কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত সংঘাতের ইস্যু নয়, বরং এটি একটি হত্যাকাণ্ড মাত্র। তিনি তার ছেলের বিয়োগব্যথাকে কেন্দ্র করে সমাজে আর কোনো বিভেদ বা ঘৃণা না ছড়ানোর জন্য সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সব সতর্কতা সত্ত্বেও সাউদাম্পটনের জনজীবন এখন চরম অস্বস্তিতে আচ্ছন্ন, যেখানে অনেক পরিবার নিরাপত্তার খাতিরে সন্তানদের স্কুল যাতায়াতে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%