মাল্টার প্রখ্যাত অনুসন্ধানী সাংবাদিক ড্যাফনি কারুয়ানা গালিজিয়া হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পর অবশেষে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ইয়োরগেন ফেনেখ। ২০১৭ সালে গাড়ি বোমা হামলায় সাংবাদিক ড্যাফনি নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৪ বছর বয়সী ফেনেখের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত একটি দেশে সাংবাদিক হত্যার এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
২০১৯ সালে মাল্টার উপকূল থেকে একটি প্রমোদতরীতে পালানোর চেষ্টার সময় ফেনেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারি আইনজীবীদের দাবি, তৎকালীন ৫৩ বছর বয়সী সাংবাদিক ড্যাফনি ‘সেভেন্টিন ব্ল্যাক’ নামের একটি অফশোর কোম্পানির দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারি নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছিলেন। পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে যে, এই বিতর্কিত কোম্পানির মালিক ছিলেন ইয়োরগেন ফেনেখ নিজেই।
নিহত সাংবাদিকের ছেলে পল কারুয়ানা গালিজিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্ষেপ করে লিখেছেন, মায়ের হত্যাকাণ্ডের প্রায় নয় বছর পর অবশেষে মূল হোতার বিচার শুরু হলো। ২০১৭ সালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় নিজের গাড়িতে লুকানো শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণে ড্যাফনি কারুয়ানা গালিজিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ফেনেখ সাবেক এক ট্যাক্সি চালক মেলভিন থিউমাকে ভাড়া করেছিলেন এই খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে।
তদন্তে জানা যায়, মেলভিন থিউমা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনজনকে ভাড়া করেছিলেন এবং ফেনেখের কাছ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার ডলার গ্রহণ করেছিলেন। বোমা হামলাকারী তিনজনকে ঘটনার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় এবং তারা দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে বোমা সরবরাহকারী দুজনকে ২০২৫ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অপরজন তথ্য দিয়ে সহযোগিতার বিনিময়ে সাজা কমানোর সুবিধা পেয়েছেন।
সাংবাদিক সংগঠন ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ঐতিহাসিক বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাংবাদিক হত্যার পেছনের সেই জঘন্য ষড়যন্ত্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে এমন ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনাক্রম উন্মোচিত হওয়া জরুরি। উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ২০২০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মাস্কাত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
২০২১ সালে প্রকাশিত একটি সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তৎকালীন সরকারের সৃষ্ট দায়মুক্তির সংস্কৃতির কারণে রাষ্ট্র এই হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারে না। তবে শুরু থেকেই ইয়োরগেন ফেনেখ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ধারণা করা হচ্ছে, মাল্টার আদালতে এই বিচারিক প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে।