এল নিনোর প্রভাবে আটলান্টিকে হারিকেনের তীব্রতা হ্রাসের পূর্বাভাস

আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় মৌসুম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে, যা ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, এ বছর ‘এল নিনো’ নামক আবহাওয়াজনিত প্রভাবে আটলান্টিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের মৌসুমে ঝড়ের সক্রিয়তা স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ার সম্ভাবনা ৫৫ শতাংশ, স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ৩৫ শতাংশ এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর এল নিনোর আবির্ভাব ঘটে, যা ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই প্রাকৃতিক ঘটনার সৃষ্টি হয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, যা বন্যা, খরা ও তীব্র দাবদাহের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এল নিনোর বিপরীত মেরুতে রয়েছে ‘লা নিনা’, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায় এবং আটলান্টিক অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

আটলান্টিকে এল নিনোর প্রভাব থাকলেও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ভিন্ন। সংস্থাটির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার পরিচালক কেন গ্রাহাম এ প্রসঙ্গে বলেন, এল নিনো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ কমিয়ে আনলেও প্রতিটি মৌসুমের প্রকৃতি ভিন্ন হয়। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মাত্র একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ই একটি মৌসুমকে মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে আটলান্টিক অববাহিকায় ঘূর্ণিঝড়জনিত ক্ষয়ক্ষতি অত্যন্ত ভয়াবহ। ১৯৮০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে ৭,২১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৫৫ ট্রিলিয়ন ডলারে।

ঘূর্ণিঝড়, টাইফুন এবং সাইক্লোন মূলত একই ধরনের ঝড়, যা কেবল উৎপত্তিস্থলের ভিন্নতার কারণে আলাদা নামে পরিচিত। উত্তর আটলান্টিক ও উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে এগুলোকে ‘হারিকেন’ বলা হয়, যা এক থেকে পাঁচ ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। দক্ষিণ প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরে এগুলো ‘সাইক্লোন’ এবং উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এগুলো ‘টাইফুন’ নামে পরিচিত। বায়ুর গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ১১৯ কিলোমিটার অতিক্রম করলেই এ ধরনের ঝড় বিধ্বংসী রূপ ধারণ করে।

বিজ্ঞাপন

ঝড় শনাক্তকরণ ও সতর্কবার্তা প্রচারের সুবিধার্থে ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে নাম দেওয়ার পদ্ধতি চালু হয়। বর্তমানে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ঝড়ের নামকরণ করা হয়, যেখানে প্রতি ছয় বছর অন্তর তালিকা আবর্তিত হয়। তবে কোনো ঘূর্ণিঝড় যদি মাত্রাতিরিক্ত ধ্বংসাত্মক হয়, তবে সেই নামটি তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়। ক্যাটরিনা, স্যান্ডি এবং মারিয়ার মতো নামগুলো ইতিহাসের ভয়াবহতার সাক্ষী হিসেবে তালিকা থেকে বিদায় নিয়েছে। এল নিনোর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বদিকে ঝড়ের প্রবণতা বাড়লেও পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%