ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় স্টারমার, ব্রিটেনে নতুন করে শুরু ব্রেক্সিট বিতর্ক

ব্রিটেনে ব্রেক্সিট-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি এখন দেশটির রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি স্থানীয় নির্বাচনে বিপর্যয়ের মুখে পড়ায় ব্রেক্সিটের সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ব্রিটেনকে ইউরোপের কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করলেও, ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে পার্টির উত্থান এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ এই পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে ব্রেক্সিটের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। লন্ডনের ল্যাম্বেথ এলাকার বাসিন্দা ৬৬ বছর বয়সী জনি স্কেটস একজন ডিজে হিসেবে কাজ করার সুবাদে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর কর বিধিনিষেধের কবলে পড়েছেন। তার মতো অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছে ব্রেক্সিট মানেই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর বাড়তি খরচের বোঝা, যা তাদের পেশাগত জীবনে দীর্ঘমেয়াদী সংকট সৃষ্টি করেছে।

ব্রিটেনের রাজনীতিতে ব্রেক্সিট এখন কেবল একটি পুরোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের লড়াইয়ের অন্যতম ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ব্রেক্সিটকে একটি বিপর্যয়কর ভুল বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের স্বার্থে ইইউতে ফেরার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ এই বিতর্কে জড়াতে অনাগ্রহী, যা ইঙ্গিত দেয় যে ব্রিটিশ সরকার এই স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্রেক্সিটের ফলে বাণিজ্যে যে স্থবিরতা ও লজিস্টিক ব্যয় বেড়েছে, তা আগে থেকেই অনুমিত ছিল। কিং কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক জোনাথন পোর্টেস সতর্ক করেছেন যে, ব্রেক্সিট-বিরোধী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্রিটেনের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে কোনো অর্থবহ আলোচনায় আগ্রহী হবে না। ইইউ এবং ব্রিটেনের সম্পর্ক উন্নয়নের এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি বিশ্লেষক পিয়ার্স লুডলো মনে করেন, ব্রেক্সিট ইস্যু ব্রিটিশ সমাজকে দুটি ভিন্ন মেরুতে বিভক্ত করে ফেলেছে। এক দশকের ব্যবধানেও সেই বিভেদ এখনো বিদ্যমান, যা ভবিষ্যতে কোনো বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পথে বাধা হতে পারে। সাধারণ মানুষ এখন ব্রেক্সিটের কুফল নিয়ে নতুন করে ভাবছে সত্য, কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রিফর্ম ইউকে পার্টির মতো উগ্রবাদী শক্তির উত্থান ব্রিটেনের ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%