নিয়োগ দুর্নীতি থেকে বিধানসভায় সই জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নির্বাচনী প্রচারে করা বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বেলা ১২টার ঠিক দু’মিনিট আগে তিনি কড়া নিরাপত্তার বলয় পেরিয়ে ভবানীভবনে সিআইডি দপ্তরে পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনি পরামর্শদাতা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে করা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এই তলবকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, গত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে করা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডিজে বাজানো’ সংক্রান্ত মন্তব্যটিই এই জিজ্ঞাসাবাদের কেন্দ্রবিন্দু। ওই মন্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিধাননগর সাইবার থানায় মামলা দায়ের হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সিআইডির হাতে ন্যস্ত করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, ওই জনসভায় অভিষেক বলেছিলেন, ৪ মে-র পর তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরলে বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে ডিজে বাজানো হবে, যা তাঁদের ‘কান ঝালাপালা’ করে দেবে। এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর নয়, বরং এর মধ্যে উস্কানির সুর ছিল কি না, তা যাচাই করতেই তদন্তকারীরা সচেষ্ট।
মঙ্গলবারের এই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তারা আগে থেকেই একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নমালা প্রস্তুত রেখেছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের পুরো প্রক্রিয়াটি রেকর্ড করা হচ্ছে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। ভবানীভবন চত্বরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, টানা তিন দিন ধরে তিনটি পৃথক মামলায় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে হলো তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতাকে। এর আগের দিনই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির জেরার মুখে পড়েছিলেন তিনি। তারও আগে বিধানসভায় সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে হয়েছিল। ধারাবাহিক এই তলব ও জিজ্ঞাসাবাদের পর্বকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং জিজ্ঞাসাবাদের শেষে কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।