সাংসদ কেনাবেচার অভিযোগ নিয়ে মহুয়ার বিদ্রূপ ও রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের সাংসদদের দলত্যাগ করানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত। তাঁর দাবি, বিদ্রোহী সাংসদদের প্রতিটি আসনের বিপরীতে ৫০ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ১৫ কোটি টাকা অগ্রিম হিসেবে প্রদানের প্রলোভন দেখানো হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, দলবদলের জন্য ১৫ কোটি টাকা অত্যন্ত সামান্য অংক। তিনি দাবি করেন যে, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি ৪ কোটি টাকা পাওয়ার পাশাপাশি অবশিষ্ট ৩৬ মাসের জন্য মাসিক ১ কোটি টাকা হারে অর্থ পাচ্ছেন।

মহারাষ্ট্রের এই রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের সাংসদদের ভাঙনের জল্পনা। গত মঙ্গলবার মুম্বইয়ে উদ্ধব ঠাকরে আয়োজিত বৈঠকে দলের ৯ জন সাংসদের মধ্যে মাত্র ৪ জন উপস্থিত ছিলেন, যা দলটির অভ্যন্তরীণ ফাটলকে স্পষ্ট করে তুলেছে। একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা শিবিরের দাবি, বিদ্রোহী সাংসদদের একটি অংশ জাতীয়তাবাদী সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই নামক একটি স্বল্প পরিচিত দলের সঙ্গে মিশে গিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

বিদ্রোহী সাংসদদের এই কৌশলী অবস্থানের বিষয়ে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, খাতায়-কলমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ না দিলেও, এনসিপিআইয়ের ব্যানারে তারা বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। যদিও মহুয়া মৈত্রের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর থেকে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের দাবি, মহারাষ্ট্রে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংসদ কেনাবেচার মতো অশুভ তৎপরতা চলছে। সঞ্জয় রাউত দাবি করেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি এই অর্থের প্রস্তাব সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছেন। সংসদীয় দলের এই ভাঙন ঠেকাতে এবং বিজেপির উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রুখতে উদ্ধব শিবির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হতে পারে বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে ক্ষমতা ও সমর্থন ছিনিয়ে নিতে পর্দার আড়ালে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন ঘটছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

০%
০%
০%
০%