এনসিইআরটি পাঠ্যবইতে জরুরি অবস্থার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর আলোকে ভারতের স্কুলশিক্ষার পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যবইতে ভারতের ইতিহাসে বিতর্কিত অধ্যায় বলে পরিচিত ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত চলা জরুরি অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে পাঠ্যবইয়ের এই পরিবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নতুন পাঠ্যবইটি ঘিরে প্রধান অভিযোগটি উঠেছে সংবিধানের প্রস্তাবনার ব্যাখ্যা বাদ দেওয়া নিয়ে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পাঠ্যবইয়ে সংবিধানের প্রস্তাবনাভুক্ত ‘সার্বভৌম’, ‘সমাজতান্ত্রিক’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা বাদ দেওয়া হয়েছে। এর আগে নবম শ্রেণির ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতি ১’ অধ্যায়ে সংবিধানের দার্শনিক ভিত্তির যে বিশদ আলোচনা ছিল, নতুন ২২০ পৃষ্ঠার বইয়ে তার অনুপস্থিতি নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।

নতুন বইটির নাম রাখা হয়েছে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’। এতে সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসের পাশাপাশি জরুরি অবস্থার প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত জরুরি অবস্থা ছিল ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ, বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে অভ্যন্তরীণ অশান্তির অজুহাতে এই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল, যেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ এবং বিরোধী রাজনীতিকদের গ্রেফতারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এই সংযোজনকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জরুরি অবস্থার সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ বা অশুভ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা আবশ্যক। তবে এই সিদ্ধান্তকে একপাক্ষিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছেন কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাঠ্যপুস্তক ও ইতিহাসকে নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুযায়ী সাজানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

উদ্ধব-শিবসেনার সাংসদ সঞ্জয় রাউত এনসিইআরটির এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে দাবি করেন, জরুরি অবস্থা একটি সাংবিধানিক বিধান, যা পাঠ্যবইয়ে আলোচনার বিষয়বস্তু হওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া। এদিকে এনসিইআরটি কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল, নবম শ্রেণিতে ইতিহাস, ভূগোল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জন্য আলাদা বইয়ের পরিবর্তে একটি সমন্বিত সমাজবিজ্ঞানের বই প্রবর্তন করা হবে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন পাঠ্যক্রম দেশটির শিক্ষা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

০%
০%
০%
০%