রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) আইনি বৈধতা, নিবন্ধনের নথিপত্র এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়ঙ্ক খাড়গের তোলা প্রশ্নকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করে দিয়েছেন সংগঠনটির সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। ভারতের কর্ণাটকের মন্ত্রীর চিঠির প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভাগবত সাফ জানিয়েছেন, সঙ্ঘের কার্যকলাপে গোপনীয়তার কিছু নেই এবং এ ধরনের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তিনি বোধ করছেন না।
সম্প্রতি প্রিয়ঙ্ক খাড়গে ভারতর আরএসএস প্রধানকে লেখা এক চিঠিতে দাবি করেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে কোনো সংগঠনই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। খাড়গের তথ্য অনুযায়ী, কর্ণাটকে সঙ্ঘের বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে, যেখানে ২১৯৪টি সমাজ উৎসবে ১৯.৬১ লক্ষ মানুষ অংশ নিয়েছেন এবং ২.২১ লক্ষ মানুষ রুট মার্চে অংশগ্রহণ করেছেন। এত বড় ও প্রভাবশালী সংগঠনের আইনি মর্যাদা, অর্থনৈতিক উৎস এবং আয়ব্যয়ের স্বচ্ছতা থাকা জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
এই অভিযোগের জবাবে মোহন ভাগবত বলেন, সঙ্ঘের কর্মকাণ্ড সর্বজনবিদিত এবং মানুষ তাদের কাজের সঙ্গে পরিচিত। তাঁর মতে, যারা সরকারি অনুদান গ্রহণ করে কেবল তাদেরই নিবন্ধনের প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু আরএসএস সেই পথের অনুসারী নয়। বরং এই প্রশ্ন তোলাকে সঙ্ঘের কাজে বাধা সৃষ্টি এবং জনগণের মনে সন্দেহের বীজ বপন করার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
ভাগবত আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে ভারতর সরকার দুবার সঙ্ঘকে নিষিদ্ধ করেছিল, যা পরবর্তীতে আইনি লড়াই ও সত্যাগ্রহের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হয়েছে। ফলে সরকারের কাছে সঙ্ঘের অস্তিত্ব সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই সংগঠনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বর্তমান প্রশ্নগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং গুরুত্বহীন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
প্রিয়ঙ্ক খাড়গে চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছিলেন, মন্দির, ট্রাস্ট ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী স্বচ্ছতা বজায় রাখলে আরএসএস কেন তার ব্যতিক্রম হবে। খাড়গে সংবিধান মেনে চলা ও কর প্রদানের মাধ্যমে সংগঠনটিকে মূলধারার আইনি কাঠামোর আওতায় আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ভাগবতের মতে, এই ধরনের কৌশল সঙ্ঘের কাছে নতুন নয় এবং দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে কাজ করে আসা সংগঠনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অর্থহীন।