পুণের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্তে প্রতিদিন নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। লোহাগড় দুর্গে রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে সিয়া গোয়েল এবং চেতন চৌধুরী নামের দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, তদন্তে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন গোয়েন্দারা।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, নিহত ২৬ বছর বয়সী কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন হওয়ার পরেও সিয়া এবং চেতন গোপনে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। চেতন একজন ক্রিকেটার এবং সিয়ার দাদা সাহিল গোয়েলের সঙ্গে খেলার সুবাদে তার পরিচয় ছিল। ২০২৪ সালে ক্রিকেট মাঠ থেকে শুরু হওয়া এই পরিচিতি পরবর্তীকালে দেওয়ালির এক অনুষ্ঠানে ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। সাহিলকে গত শুক্রবার দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ম্যারাথন জেরা করেছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, সিয়ার পরিবার চেতনকে পছন্দ করত না এবং আর্থিক অবস্থার ভিন্নতার কারণে কেতনের সঙ্গেই বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে গোয়েন্দাদের হাতে আসা কল ডিটেল রেকর্ড থেকে জানা যাচ্ছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অভিযুক্ত সিয়া ও চেতন প্রায় ২,০০৪ বার ফোনে কথা বলেছেন, যার মোট সময়কাল প্রায় ২৩৮ ঘণ্টা। এছাড়াও ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ফরেনসিক দল বর্তমানে তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
ঘটনার নেপথ্যে থাকা অদ্ভুত এক কারণও বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্র অনুযায়ী, কেতনের মাথায় চুলের ঘনত্ব কম থাকাকে সিয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। যদিও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হেয়ার প্যাচ ব্যবহারের বিষয়টি বিয়ের আগেই সিয়ার পরিবারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ইতিমধ্যে কেতনকে হত্যার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ১৭ জুন পুণের লুল্লানগরের একটি ক্যাফেতে সিয়া ও চেতনের দেখা করার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেখানে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় কাটানোর সময় তারা খুনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাহিল গোয়েল ছাড়াও সিয়ার পরিবারের অন্য সদস্যদের বয়ানও দ্রুত রেকর্ড করার পরিকল্পনা করছে পুলিশ।