ভারতের প্রতিরক্ষা ও বিমান নির্মাণ খাতে বিশাল বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করেছে ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় এয়ারোস্পেস জায়ান্ট এমব্রায়ার। সংস্থাটি ঘোষণা করেছে, যদি ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা প্রকল্প থেকে তারা প্রয়োজনীয় বরাত পায়, তবে ভারতে একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক বিমান উৎপাদন কারখানা স্থাপন করবে তারা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা হবে ব্রাজিলের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে এমব্রায়ারের প্রথম বৃহৎ সামরিক বিমান উৎপাদন কেন্দ্র, যা ভারতকে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা উৎপাদনের নতুন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ‘মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট’ প্রকল্পের অধীনে ‘কেসি-৩৯০ মিলেনিয়াম’ বিমান সরবরাহের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে এমব্রায়ার। এই প্রকল্পের কার্যাদেশ নিশ্চিত হলে সংস্থাটি ভারতে কেবল বিমান সংযোজন নয়, বরং যন্ত্রাংশ উৎপাদন, শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন এবং রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই উদ্যোগ ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এমব্রায়ারের এই বিনিয়োগ ভারতের এয়ারোস্পেস শিল্পে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন দুয়ার খুলে দেবে। তবে কোম্পানিটি স্পষ্ট করেছে যে, এই বিশাল বিনিয়োগ সম্পূর্ণভাবে ভারতের সরকারি প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, দরপত্রে জয়ী হওয়ার পরই কেবলমাত্র উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভারত সরকার বর্তমানে দেশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি সংস্থাগুলোর সাথে যৌথ উদ্যোগকে উৎসাহিত করছে, যে প্রেক্ষাপটে এমব্রায়ারের প্রস্তাবটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারত সরকার আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ৬০ থেকে ৮০টি মাঝারি পরিবহণ বিমান কেনার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক দরপত্র আহ্বান করতে পারে। এমব্রায়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্রান্সিস্কো গোমেজ নেটো জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার প্রত্যাশা করছে তাদের সংস্থা। ভারতের বাজারে নিজেদের অবস্থান সংহত করতে ইতিমধ্যে মহিন্দ্রা গ্রুপের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে এমব্রায়ার।
‘কেসি-৩৯০ মিলেনিয়াম’ বিমানটিকে এমব্রায়ার একটি বহুমুখী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা সেনা ও রসদ পরিবহণ, জরুরি চিকিৎসা সেবা, মানবিক সহায়তা এবং আকাশে জ্বালানি ভরার মতো জটিল কাজগুলোয় সক্ষম। ভারতীয় বিমানবাহিনীর পুরনো পরিবহণ বহর পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় এই বিমানটি অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বরং প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের এক অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন নীতিনির্ধারকরা।