ওয়েলশের দুটি সমুদ্র সৈকতে শত শত মৃত হাঙর ও অন্যান্য মাছ ভেসে আসার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো মাছ ধরার পর সাগরে পরিত্যক্তভাবে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের উপর গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
শনিবার কার্মার্দেনশায়ারের সেফন সিডান সৈকতে কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হওয়া ব্যক্তিরা এক জাল ভর্তি মৃত ডগফিশ, যা ক্যাটশার্ক নামেও পরিচিত, উদ্ধার করেন। এই ঘটনার কয়েক দিন আগেই প্রতিবেশী পেমব্রোকশায়ারের সন্ডার্সফুট সৈকতেও শত শত মৃত হাঙর ও মাছের সন্ধান মিলেছিল।
স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণবাদী এবং সি ট্রাস্ট ওয়েলস দাতব্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ক্লিফ বেনসন ওয়েস্টার্ন টেলিগ্রাফকে জানান যে, এ ধরনের ছোটখাটো ঘটনা ওই এলাকায় নতুন নয়। তিনি বলেন, “প্রায়শই আমরা ডগফিশ বা ক্যাটশার্ককে যেন আত্মহত্যা করতে চাইছে এমনভাবে সৈকতে ভেসে আসতে দেখি, যদিও এর পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ অজানা।”
তবে, এবারের ঘটনাটির মাত্রা অনেক বড়। বেনসনের অনুমান, বাণিজ্যিক প্রজাতির মাছ ধরার আশায় কোনো মাছ ধরার নৌকা হয়তো এগুলো ধরেছিল এবং পরে মৃত অবস্থায় সাগরে নিক্ষেপ করেছে। তিনি আরও একটি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এটি কোনো সামুদ্রিক দূষণ ঘটনারও ফল হতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে শুধু ডগফিশ নয়, অন্যান্য প্রজাতির মাছও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা।”
ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ) 'ভূতুড়ে জাল' বলতে এমন পরিত্যক্ত, হারানো বা ফেলে দেওয়া মাছ ধরার জালকে বোঝায়, যা সামুদ্রিক প্রাণীদের ফাঁদে ফেলে এবং তাদের মৃত্যুর কারণ হয়। একটি একক পরিত্যক্ত জাল গড়ে প্রায় ৫,০০,০০০ সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী, ১,৭০০ মাছ এবং ৪টি সামুদ্রিক পাখিকে হত্যা করে বলে অনুমান করা হয়।
ওশান কনজারভেন্সি এমন জালকে সামুদ্রিক আবর্জনার সবচেয়ে ক্ষতিকর রূপ হিসেবে অভিহিত করেছে। ধারণা করা হয়, প্রতি বছর প্রায় ১ মিলিয়ন টন 'ভূতুড়ে গিয়ার' পৃথিবীর মহাসাগরে প্রবেশ করে, যা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের এই আবিষ্কারই ওয়েলশের সৈকতে ভেসে আসা একমাত্র মৃত হাঙরের ঘটনা নয়। ২০২৩ সালে প্রিস্টাটিন সৈকতে কয়েক ডজন ডগফিশ পাওয়া গিয়েছিল এবং ২০২১ সালে ব্যারির কোল্ড ন্যাপ সৈকতে আরও শত শত ডগফিশ ভেসে এসেছিল, যার কিছুতে তখনও বড়শি ও মাছ ধরার সরঞ্জাম সংযুক্ত ছিল। ২০১৯ সালে বারি পোর্টেও ডজন ডজন ডগফিশ ভেসে এসেছিল। সে সময় একজন মৎস্যবিজ্ঞানী বলেছিলেন যে এই ঘটনা সম্ভবত তলদেশের ট্রলিংয়ের ফল।