ভক্তদের দুয়োধ্বনির মাঝে জুলিয়ানো সিমিওনের শেষ মুহূর্তের গোলে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ড্রয়ে বাঁচল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ

স্প্যানিশ লিগের এক উত্তপ্ত ও নাটকীয় ম্যাচে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। রোমাঞ্চকর এই লড়াইয়ের শেষ মুহূর্তে জুলিয়ানো সিমিওনের গোলে হার এড়ায় দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা। তবে মাঠের ফুটবলের উত্তাপ ছাপিয়ে এদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজকে নিয়ে সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভ।
ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যালারির রোষানলে ছিলেন আলভারেজ। ওয়ার্ম আপের সময় থেকেই তাকে দুয়ো দিতে শুরু করেন সমর্থকরা। এরপর ৬৬ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার সময় সেই দুয়ো আরও জোরালো হয়। বিশ্বকাপ চলাকালীন নিজের ট্রান্সফার নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে সমর্থকরা তাকে ‘ক্লাব ছাড়ার’ ডাক দেয়। ম্যাচ শেষে সতীর্থরা যখন সমর্থকদের অভিবাদন জানাচ্ছিলেন, তখন আলভারেজ সরাসরি ড্রেসিংরুমের দিকে চলে যান। এতে গ্যালারি থেকে পুনরায় দুয়োর ঝড় ওঠে।
দিয়েগো সিমিওনে নিশ্চিত করেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষই আলভারেজকে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। সমর্থকদের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে কোচ কোনো উপদেশ দেওয়ার চেয়ে নিজের কাজের ওপর মনোযোগ দেওয়ার কথা জানান। তবে আলভারেজকে দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে সিমিওনে বলেন, আতলেতিকোর লক্ষ্য অর্জনে তাকে প্রয়োজন এবং দলের খেলোয়াড় হিসেবে তার সুরক্ষায় তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, ৭৬ মিনিটে রবিন লে নরমান্ড লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আতলেতিকো ১০ জনের দলে পরিণত হয়। জর্জেস মিকাউতাদজেকে ফাউল করায় ভিয়ারিয়াল পেনাল্টি পায় এবং গোল করে এগিয়ে যায়। মনে হচ্ছিল, পরাজয় অনিবার্য, কিন্তু শেষ মুহূর্তে পাল্টা আক্রমণে আলেক্স বায়েনার পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন জুলিয়ানো সিমিওনে। ফলে নাটকীয়ভাবে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাদ্রিদের দলটি।
এর আগে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে দিয়েগো সিমিওনে জানিয়েছিলেন, আর্সেনালের সঙ্গে নাম জড়িয়ে গুঞ্জন চললেও আলভারেজ দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্বকাপের পর ছুটি কাটিয়ে ফেরা এই ফরোয়ার্ড মালাগার বিপক্ষে ম্যাচে দলে ছিলেন না, তবে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি পুনরায় স্কোয়াডে ফিরেছেন। অন্যদিকে বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিক অন্য ক্লাবের খেলোয়াড় প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
