Advertisement

দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন জাদুকর কেশব মহারাজ ও ননকুলালেকো লাবার ক্রিকেটীয় রসায়ন ও সফলতার গল্প

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের দুই বাঁহাতি স্পিনার ননকুলিলেক ম্লাবা এবং কেশব মহারাজ নিজ নিজ অবস্থানে অনন্য। ডারবানের ডলফিনস দলের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা এই দুই তারকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেদের ছাপ রেখেছেন। তবে তাদের খেলার ধরন ও ক্যারিয়ারের পথে রয়েছে বিস্তর ফারাক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেশব মহারাজ বয়সে ম্লাবার চেয়ে ১০ বছরের বড় এবং ২০১৬ সালে টেস্ট বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক অভিষেক করেন। ক্যারিয়ারের ৬২টি টেস্ট ম্যাচ খেলার পর তিনি ওয়ানডে ফরম্যাটে সুযোগ পান। অন্যদিকে, ম্লাবা টেস্টের তুলনায় সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আগে হাত পাকিয়েছেন। তিনি ৮টি ওয়ানডে এবং ১৮টি টি-টোয়েন্টি খেলার পর ২০২২ সালের জুনে টন্টনে প্রথমবার টেস্ট খেলার সুযোগ পান।

তাদের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যেও রয়েছে ভিন্নতা। ম্লাবার হাসিখুশি প্রাণবন্ত উপস্থিতির বিপরীতে মহারাজকে দেখা যায় মাঠের ভেতর চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক যোদ্ধার ভূমিকায়। বোলিং কৌশলের বিষয়ে মহারাজ বলেন, দুজনেই বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার হলেও তাদের দক্ষতার ক্ষেত্র আলাদা। একই দলে দুজন বাঁহাতি স্পিনারের জায়গা না পাওয়ার প্রচলিত ধারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রত্যেক স্পিনারের বোলিং করার ধরন আলাদা, তাই তাদের একসাথে খেলানো সম্ভব। ম্লাবা মনে করেন, পিচের বাউন্স এবং টার্নের সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি লাইন ও লেংথ ঠিক রাখাই একজন স্পিনারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ আফ্রিকার নারী ক্রিকেটের উন্নতির জন্য লড়াই করছেন ম্লাবা। তিনি মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় মেয়েদের জন্য স্বতন্ত্র লিগ আয়োজন করা হলে তা বিশ্বমঞ্চে বড় ভূমিকা রাখবে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত নারী দল তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেললেও শিরোপা জিততে পারেনি। ম্লাবার মতে, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোর সাথে ব্যবধান কমাতে নিজস্ব লিগের বিকল্প নেই। তবে দেশের ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় তিনি আশাবাদী। তার মতে, এক সময় বিনামূল্যে টিকিট বিলি করলেও এখন দর্শকরা টিকিট কিনে খেলা দেখেন, যা নারী ক্রিকেটের ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

বিজ্ঞাপন

ক্রিকেটের পাশাপাশি মহারাজ ও ম্লাবার মধ্যকার এই অনন্য সম্পর্ক তাদের ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একে অপরের সাথে কৌশল ও অভিজ্ঞতা বিনিময় তাদের দুইজনের জন্যই আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এমনকি গত এপ্রিল মাসে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের সময় মহারাজ নারী দলের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। মহারাজ স্বীকার করেছেন যে, নারী দলের সাথে সময় কাটিয়ে তিনি অনেক নতুন বিষয় শিখতে পেরেছেন। একইভাবে ম্লাবাও মনে করেন, কৌশলগত চিন্তা ও খেলার দৃষ্টিভঙ্গি উন্নত করতে মহারাজের পরামর্শ তার জন্য সহায়ক হয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার এই দুই স্পিনারের পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের জন্য এক মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠেছে।

সম্পর্কিত- দক্ষিণ আফ্রিকা
0%
0%
0%
0%