গলের মাটিতে দেবদত্ত পাডিক্কালের ব্যাটে নতুন ভোরের সন্ধান পেল ভারত

গলে টেস্টে ভারতের দুর্দান্ত জয়ের নেপথ্যে উজ্জ্বল ধ্রুবতারার মতো জ্বলে উঠেছেন দেবদূত পাড়িক্কাল। ভারতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে কেএল রাহুল মাঠে নেমেছিলেন তাঁর ৬৯তম টেস্ট ম্যাচটি খেলতে। গলের কন্ডিশনে দলের বাকিদের তুলনায় অভিজ্ঞতার বিচারে রাহুলই ছিলেন একমাত্র প্রতিনিধি, যিনি এর আগে এখানে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। তবে অভিজ্ঞতার সেই পার্থক্য ঘুচিয়ে দিয়ে তরুণ পাড়িক্কাল তাঁর দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে ম্যাচটির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাড়িক্কালের ১৬৭ রানের এই মহাকাব্যিক ইনিংসটিই ছিল টেস্ট ম্যাচটির টার্নিং পয়েন্ট। রাহুল জানিয়েছেন, পাড়িক্কালের ব্যাটিংয়ের ধরণ, ছন্দ এবং প্রথম ইনিংসে বড় শতক হাঁকানোর দক্ষতা দলটিকে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল। গলের তীব্র গরমের মধ্যে ২৩০টি বল মোকাবিলা করা ছিল শারীরিক পরীক্ষার মতো। রাহুল নিজেও ১৭৫ বল খেলার পর প্রচণ্ড পেশির খিঁচুনির কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, যা থেকে স্পষ্ট হয় কতটা প্রতিকূল ছিল খেলার পরিবেশ।
শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচ গ্যারি কারস্টেনও তরুণ এই ব্যাটারের প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি। তাঁর মতে, পাড়িক্কালের এই ইনিংসটি যেকোনো টেস্ট ব্যাটারের জন্য একটি শিক্ষণীয় অধ্যায়। তিনি খুব বেশি আক্রমণাত্মক না হয়ে বরং নিজের ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন এবং দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থেকে বড় ইনিংস গড়ার কৌশল দেখিয়েছেন। প্রায় দুই বছরের ব্যবধান কাটিয়ে টেস্ট দলে ফেরা পাড়িক্কালের এমন সাবলীল পারফরম্যান্সের পেছনে ভারতীয় ‘এ’ দলের কাঠামোকে বড় কৃতিত্ব দিচ্ছেন রাহুল।
রাহুলের অভিমত, রঞ্জি ট্রফির পর সরাসরি টেস্ট ক্রিকেটে আসাটা বেশ কঠিন, কারণ দুই স্তরের মান ও চাহিদার মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। ভারতের ‘এ’ দলের হয়ে বিভিন্ন দেশে নিয়মিত সফর এবং প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলার ফলে পাড়িক্কালের মতো ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক মঞ্চের পরিস্থিতির সঙ্গে আগেভাগেই অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ পান। গলে টেস্ট শুরুর আগে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট একাদশের বিপক্ষে ১৬৪ বলে ১৪২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি ছিল তাঁর বড় শতকের পূর্বলক্ষণ।
ভারত ‘এ’ দলের হয়ে দুই অনানুষ্ঠানিক টেস্টে ১২, ৬৭ ও ৯৪ রানের ইনিংসের পর গলে মূল টেস্টে পাড়িক্কালের এমন অবিস্মরণীয় উত্থান ভারতীয় ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই সাফল্য। রাহুলের ভাষায়, সঠিক সময়ে যথাযথ সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতাই তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, যা তাদের জাতীয় দলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শতভাগ প্রস্তুত করে। রঞ্জি ট্রফি থেকে ‘এ’ দলের সফর হয়ে মূল দলে আসার এই প্রক্রিয়াটিই এখন ভারতীয় তরুণদের বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকার মূল শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
