মুজারাবানি ও এনগারাভার তোপে জিম্বাবুয়ের কাছে ৩২ রানে হারল বাংলাদেশ

বুলাওয়েতে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের কাছে ৩২ রানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। ব্লেসিং মুজারাবানি ও রিচার্ড এনগারাভার বিধ্বংসী বোলিং তোপে পড়ে এশীয় দলটি সফর শুরু করলো আরেকটি হতাশার হার দিয়ে। টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ হারের পর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও টাইগারদের বিবর্ণ পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকল।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ওপেনাররা। তবে প্রথম ওভারে সিকান্দার রাজার ওপর চড়াও হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই দৃশ্যপটে আসেন রিচার্ড এনগারাভা। তার বাউন্সার সামলাতে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান। তিন বল পর আরেক ওপেনারকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। এরপর মুজারাবানির তোপে পাওয়ার প্লের মধ্যেই ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
বিপর্যয় সামাল দিতে ইয়াসির আলী ও তাওহীদ হৃদয় জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু হৃদয় ডিপে ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়ার পর রান আউটের ফাঁদে পড়ে দল আরও চাপে পড়ে যায়। তবে ইয়াসির লড়াই চালিয়ে যান। দুর্দান্ত সব শট খেলে ফিফটি পূর্ণ করলেও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি। ১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১১৩ রান। জয়ের জন্য শেষ পাঁচ ওভারে ৫৪ রানের সমীকরণ মেলাতে গিয়ে মুজারাবানি ও এনগারাভার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আর পেরে ওঠেনি টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। মুজারাবানি ৪ ওভারে ১৭ রান খরচায় ৪টি ও এনগারাভা ২৬ রান খরচায় ৪টি উইকেট তুলে নেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। ব্রায়ান বেনেট প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের সুর বেঁধে দেন। মেহেদী হাসানের ওভারে তাদিওয়ানাশে মারুমানি পরপর দুটি ছক্কা হাঁকালে মাত্র ২.২ ওভারেই স্বাগতিকরা ৩৪ রান তুলে ফেলে। বাংলাদেশ এরপর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে।
তবে ইনিংসের শেষ দিকে ব্র্যাড ইভান্সের ক্যামিও ইনিংস জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহের পথ তৈরি করে দেয়। নাহিদ রানা ৩ ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে দুর্দান্ত বল করলেও শেষ ওভারে ইভান্সের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে ১৭০ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে জিম্বাবুয়ে ৬ উইকেটে ১৭০ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ২৬ রানে ৩টি উইকেট নেন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান আসে ইয়াসিরের ব্যাট থেকে। ব্লেসিং মুজারাবানি ও রিচার্ড এনগারাভার সম্মিলিত বোলিং তোপে সফরকারীদের অসহায় আত্মসমর্পণ নিশ্চিত হয়।