পরিবারের টানে বিসর্জন দিয়ে নতুন স্বপ্নের পথে আমশি ডি সিলভার দুর্দান্ত উত্থান

মেজর লিগ ক্রিকেটের উদ্বোধনী রাতে গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামের পিচটি ছিল ব্যাটারদের জন্য স্বর্গরাজ্য। পাওয়ারপ্লের শুরু থেকেই টিম সেইফার্ট এবং সায়ান জাহাঙ্গিরের তাণ্ডবে বোলাররা যেন অসহায় শিকার হয়ে পড়েছিলেন। তবে সেই ব্যাটিং উৎসবের মাঝে হঠাৎই দৃশ্যপট বদলে দিলেন আমশি ডি সিলভা। শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক এই পেসার তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে বুঝিয়ে দিলেন, নিষ্প্রাণ উইকেটেও জাদু দেখানো সম্ভব। তার এক ওভারের স্পেল যেন পুরো ম্যাচের আবহ বদলে দিয়েছিল, যেখানে সেইফার্টের মতো ব্যাটাররাও হিমশিম খাচ্ছিলেন।
পঁচিশ বছর বয়সী ডি সিলভার বোলিং অ্যাকশনে এক অদ্ভুত ছন্দ রয়েছে। উচ্চতায় অনেক পেসারের চেয়ে খাটো হলেও, তার দ্রুতগতির হাত এবং ডেলিভারির স্কিডি ট্র্যাজেক্টরি ব্যাটারদের জন্য দুঃস্বপ্নের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্ন্সের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি ফিন অ্যালেন এবং লুয়ান-দ্রে প্রেটোরিয়াসের মতো ব্যাটারদের সাজঘরে ফিরিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন। শুধু বোলিং নয়, প্রায় ৪০ গজ দৌড়ে ফিল্ডিং করে সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তিকে সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট করা তার লড়াকু মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
ডি সিলভার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন দীর্ঘ যাত্রা। শ্রীলঙ্কার হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হওয়ার পরও পারিবারিক টানাপোড়েনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ক্যারিয়ারের শিখরে পৌঁছানোর নেশায় যখন তার পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল, তখন তিনি নিজের উচ্চাশাকে বিসর্জন দিয়ে বাবা-মায়ের সান্নিধ্যে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ইন্ডিয়ানার এক গ্যাস স্টেশনে দীর্ঘ সময় কাজ করা সেই তরুণ আজ মেজর লিগ ক্রিকেটে টেক্সাস সুপার কিংসের অন্যতম আস্থার প্রতীক।
সাবেক শ্রীলঙ্কান তারকা অ্যাঞ্জেলো পেরেরার সহায়তায় আমেরিকার ক্রিকেট আঙিনায় আসা ডি সিলভা এখন দলের বোলিং আক্রমণের প্রাণ। আট ম্যাচে ১২ উইকেট নেওয়া তার পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় অর্জন হলো তার আগ্রাসী মনোভাব। বিশেষ করে তার বাউন্সার, ইয়র্কার এবং নিখুঁত স্লোয়ার ডেলিভারি তাকে আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এক অনন্য অস্ত্র করে তুলেছে। তার গতি এবং ক্ষিপ্রতা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ডি সিলভাকে নিয়ে এখন নতুন স্বপ্ন বুনছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের আগে তাকে দলে পাওয়া গেলে মার্কিন পেস আক্রমণ হয়ে উঠতে পারে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ইউনিট। ব্যক্তিগত জীবনে বাবা-মায়ের কাছাকাছি থাকা এবং পেশাদার ক্রিকেটে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার এই দুই লড়াইয়ে ডি সিলভা যেন এখন এক পূর্ণতা খুঁজে পেয়েছেন।