ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের মুকুট অস্ট্রেলিয়ার মাথায়

অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেটের আধিপত্য যে চিরন্তন, তা আবারও প্রমাণিত হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের হতাশাজনক অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুন নেতৃত্বের অধীনে মাঠে নেমে অজিরা বুঝিয়ে দিল কেন তারা বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে ভয়ের নাম। ইংল্যান্ডের মাটিতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্বাগতিকদের ৭ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের রেকর্ড সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। ১৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৭.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা। ১৯৯৩ সালের পর থেকে ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের খরা কাটিয়ে ইতিহাস গড়ল সফরকারীরা।

বিজ্ঞাপন

টস জিতে বল করার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অজি অধিনায়ক। পিচের আচরণ বুঝে শুরু থেকেই অজি বোলাররা ছিলেন দুর্দান্ত ও নিয়ন্ত্রিত। দলীয় ৩৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল ইংল্যান্ড। লুসি হ্যামিল্টনের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন এমি জোন্স। এরপর ড্যানি ওয়াট-হজকে শিকার করে ব্রেক-থ্রু এনে দেন অ্যানেবেল সাদারল্যান্ড। মাঝপথে অ্যালিস ক্যাপসি কিছুটা পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালালেও, তাকে ফিরিয়ে স্বস্তি ফেরান সোফি মলিনেক্স। এরপর কিম গার্থের বলে লেগ বিফোর হয়ে সাজঘরে ফেরেন হিদার নাইট।

ইংলিশদের ইনিংসের শেষ দিকে ত্রাতা হয়ে আসেন ফ্রেয়া কেম্প। ন্যাট সিভার-ব্রুন্টের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৮০ রানের জুটি গড়ে দলের সংগ্রহকে ১৫০ রানে নিয়ে যান তিনি। সিভার-ব্রন্ট ৫২ বলে অপরাজিত ৫৮ রান করলেও, কেম্পের ২৮ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংসটি ইংলিশদের লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে কিম গার্থ ১টি ও লুসি হ্যামিল্টন ১টি উইকেট শিকার করেন।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিল। জর্জিয়া ভল ১১ বলে দ্রুত কিছু রান তুলে ভিত্তি গড়ে দেন। এরপর বেথ মুনি এবং ফিবি লিচফিল্ড মিলে গড়ে তোলেন ১২৭ রানের দুর্দান্ত এক জুটি। মুনি ৬৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন, আর লিচফিল্ড করেন ৪৮ রান। ইংলিশ বোলাররা এই জুটিকে ভাঙার কোনো পথই খুঁজে পাননি। শেষ পর্যন্ত এলিস পেরির সাথে জুটি বেঁধে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন মুনি।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচশেষে স্কোরবোর্ড বলছে, ইংল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান সংগ্রহ করে। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ১৭.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান তুলে ৭ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচসেরা মুনি ও লিচফিল্ডের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল অস্ট্রেলিয়া।

0%
0%
0%
0%