৯৫ রানে আউট হয়ে সেঞ্চুরি হাতছাড়া করার আক্ষেপে পুড়লেন মার্কেস অ্যাকারম্যান

নিউল্যান্ডস স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার এক মর্মান্তিক ব্যাটিং ধসের সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব। দুপুরের খাবারের বিরতির পর প্রোটিয়াদের ইনিংস যেভাবে মুখ থুবড়ে পড়ল, তাতে সব আলো কেড়ে নিল মাত্র পাঁচ রানের আক্ষেপ। মার্কাস অ্যাকারম্যান সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় এসেও মাত্র ৯৫ রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। নাথান লায়নের করা ফ্ল্যাট, দ্রুতগতির ও ওয়াইড বলটিতে লেগ সাইডের দিকে সরে গিয়ে শট খেলতে গিয়ে আলেকজান্ডার ক্যারির দুর্দান্ত স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ক্রিজে থেকে ৯৪ বল মোকাবিলা করে ১২টি চার ও চোখ জুড়ানো কয়েকটি ছক্কা হাঁকিয়েও তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারার বেদনা গ্রাস করেছিল স্বাগতিক সমর্থকদের।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের হতাশা লুਕাননি ৯৫ রান করা এই ব্যাটার। নিজের টেস্ট সেঞ্চুরি হাতছাড়া হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, তলোয়ারের ওপর ভর করে বেঁচে থাকা এবং তলোয়ারের আঘাতেই শেষ হয়ে যাওয়ার মতো বিষয় এটি। তিনি স্বীকার করেন যে উইকেটে একটি টেস্ট সেঞ্চুরি তিনি ফেলে এসেছেন এবং এ ঘটনায় তিনি খুশি নন, যা ভবিষ্যতে তার প্রথম সেঞ্চুরি অর্জনের ক্ষেত্রে দারুণ মোটিভেশন হিসেবে কাজ করবে।

অ্যাকারম্যানের বিদায়ের পর যেন দুর্ভাগ্যের কালো ছায়া নেমে আসে পুরো দলের ইনিংসে। এইডেন মার্করাম প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে দারুণ এক ইনিংস খেলে ৭৮ রান করেন। কিন্তু জশ হ্যাজলউডের বলে ডিপ ফাইন লেগে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে তাকেও ফিরতে হয় প্যাভিলিয়নে। আগের ম্যাচে ক্যারিয়ারসেরা ১৭৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা টেম্বা বাভুমাও ক্রিজে এসে খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি। জশ হ্যাজলউডের দুটি বল ডিফেন্ড করার পর নাথান লায়নের সোজা বলটিতে লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।

এরপর দ্রুত ব্যবধানে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইনআপ। ম্যাথিউ ব্রিটজকে এলবিডব্লিউ হয়ে কুপার কনোলির প্রথম টেস্ট উইকেটে পরিণত হন। ডেভিড বেডিংহাম চমৎকার একটি হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার মাত্র দুই বল পর মিচেল স্টার্ককে বিশাল ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে জশ হ্যাজলউডের ক্যাচে পরিণত হন। উইয়ান মুল্ডার স্টার্কের শর্ট বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে খাতা খুলতেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দল।

মধ্যাহ্নভোজের পর চতুর্থ ওভারের শুরুতেও দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোরবোর্ডে কোনো উইকেট না হারিয়ে রান ছিল ১৪০। কিন্তু এর ঠিক দেড় ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে মাত্র ৭৪ রান যোগ করতেই তারা হারিয়ে বসে ৬টি উইকেট, যার মধ্যে শেষ ৫ উইকেটের পতন ঘটে মাত্র ২৯ রানে। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার প্যাট কামিন্সের সিদ্ধান্তকে শুরুতে বোকামি মনে হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রমাণিত হয় নিখুঁত এক মাস্টারপিস হিসেবে, আর অস্ট্রেলিয়ার নিবেদিতপ্রাণ বোলিং আক্রমণ স্বাগতিকদের দাঁড়াতেই দেয়নি।

০%
০%
০%
০%