বাংলাদেশ ক্রিকেটে অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা যেন দীর্ঘদিনের সঙ্গী, বিশেষ করে যখন মাঠের পারফরম্যান্স পড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে সব ফরম্যাটে জাতীয় দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর আবারও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সাতটি উইকেট শিকার করতে ব্যর্থ হয় দল। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে থাকা এবং চলমান চক্রের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখা দলের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক একটি পারফরম্যান্স।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি দল। এশিয়ান গেমসে কোনো পদক জিততে ব্যর্থ হওয়ার পর, সম্প্রতি শেষ হওয়া আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়কে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালেও জায়গা করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি সাদা বলের স্কোয়াডের শৃঙ্খলা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। এশিয়ান গেমসের সময় অনুমতি ছাড়া বাইরে যাওয়ার কারণে কিছু ক্রিকেটারকে জরিমানা করা হয়। এছাড়া ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যর্থতার পর দলীয় হোটেল ছেড়ে শপিংয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে কতিপয় ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে, যদিও তারা দলের কার্ফিউ ভঙ্গ করেননি বলে কোনো আনুষ্ঠানিক শাস্তি পাননি।
দলের এই দুঃসময়ে নড়েচড়ে বসেছে ক্রিকেট বোর্ড। জিম্বাবুয়ের কাছে ত্রিদেশীয় সিরিজে হারের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে দলের আড়াই ঘণ্টার বৈঠক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের ঠিক আগে কোনো দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প কোচ ঘোষণা না করেই ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তেও অনেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) বোর্ডের সভাপতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া সেই বৈঠক প্রসঙ্গে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স পরিষ্কার ধারণা দিয়েছেন। ওই দিন বোর্ড সভাপতি দলের ব্যবস্থাপনা সদস্য এবং পাঁচ জন সিনিয়র ক্রিকেটার নাজমুল হোসেন, তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন কুমার দাস ও মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। অতীতে এমন বৈঠকগুলো সাধারণত হতাশা থেকেই হতো, যেখানে বোর্ড সভাপতি ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের তীব্র সমালোচনা করতেন।
তবে ফিল সিমন্স নিশ্চিত করেছেন যে এবারের বৈঠকটি আগের মতো ছিল না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর ড্রেসিংরুমে ক্ষোভ প্রকাশ করা বোর্ড সভাপতি এবার দলের উন্নতি ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে খেলোয়াড়দের পরামর্শ শুনতে আগ্রহী ছিলেন। কোচ ফিল সিমন্স নিজেই সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং এটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, বৈঠকটি কোনো নির্দিষ্ট সিরিজ নিয়ে ছিল না, বরং সামগ্রिकভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায় এবং তরুণ খেলোয়াড়দের কীভাবে বিকাশ ঘটানো যায়, সেটাই ছিল আলোচনার মূল বিষয়।
আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজ নিয়ে কোচ আশাবাদী। ত্রিদেশীয় সিরিজের ব্যস্ততা শেষে দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটাররা দেরiya টেস্ট ক্যাম্পে যোগ দিলেও প্রস্তুতি ব্যাহত হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। যদিও এই পরিস্থিতি আদর্শ নয়, তবুও খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের মধ্যেই থাকায় দলের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদী কোচ ফিল সিমন্স।