১ এপ্রিল ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত ঘরোয়া ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ২৫১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৬ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করেছে রেলওয়েজ। এই জয়ে বাংলার বিপক্ষে পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ এক দাপট দেখাল তারা, যদিও বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক মানের বোলারদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলার ইনিংসে একমাত্র উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন দীপ্তি শর্মা। তিনি ১৪৮ বলে খেলেন ১১৩ রানের এক লড়াকু ইনিংস।
বল হাতে ৮ ওভারে ৬১ রান খরচ করে কোনো উইকেট পাননি দীপ্তি, আর এখানেই ম্যাচের পর প্রশ্ন তোলেন বাংলার কোচ চরণজিৎ সিং। সেঞ্চুরি করার পরেও কোচের কঠোর মূল্যায়নে উঠে আসে যে, উইকেটে থিতু হয়েও দীপ্তির রক্ষণাত্মক ব্যাটিং দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। পিচে থাকার সময় তিনি প্রচুর রান নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন এবং অতিরিক্ত ২৫ থেকে ৩০ রান এলে ম্যাচটি আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারত।
প্রাথমিকভাবে কোচ যখন দীপ্তির এই দুর্বলতা ধরিয়ে দেন, তখন বাঁহাতি এই ব্যাটার রক্ষণাত্মক অবস্থান নিয়ে রেলওয়েজের বোলিংকে কৃতিত্ব দিতে চান। তবে কোচের চোখ এড়ায়নি যে, অফ সাইডে শট খেলার ক্ষেত্রে দীপ্তি যথেষ্ট সংগ্রাম করছিলেন এবং আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটের দ্রুত বদলে যাওয়া গতির সঙ্গে নিজের ব্যাটিংয়ের মান তাল মিলিয়ে চলতে পারছিলেন না। ১৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা দীপ্তি ২০১৭ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১৮৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন, যা আজও ভারতীয় রেকর্ড হিসেবে অম্লান।
দীপ্তির এই ধীরগতির শুরু, উইকেটের মাঝে মন্থর রানিং এবং আধুনিক পাওয়ার হিটিংয়ের অভাব তাকে দলের জন্য একপ্রকার বোঝা বানিয়ে তুলেছিল। ওপেনিং থেকে শুরু করে লোয়ার অর্ডার—ওয়ানডে ফরম্যাটের ১ থেকে ৯ নম্বর পজিশন পর্যন্ত বারবার ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন করেও তার নির্দিষ্ট ভূমিকা নিয়ে কোনো স্পষ্ট সমাধান মেলেনি। এর ফলে স্মৃতি মন্ধানা বা শেফালি ভার্মার এনে দেওয়া ঝোড়ো সূচনার পর মাঝের ওভারগুলোতে রান তোলার গতি থমকে যেত এবং দলের ইনিংসের গতিশীলতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো।
নিজের এই সীমাবদ্ধতা ও ব্যাটিংয়ের দুর্বলতাগুলো বুঝতে পেরে দীপ্তি নিজেই কোচ চরণজিৎ সিংয়ের শরণাপন্ন হন এবং ব্যাটিংয়ের উন্নতিতে বিশেষ অনুরোধ করেন। কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে চরনজিতের একাডেমিতে শুরু হয় দীপ্তির নতুন মিশন, যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল ব্যাট-স্পিড বাড়ানো, শর্ট বল পুল করা এবং অফ সাইডে কাট শট ও মিড-অফ অঞ্চলে রান তোলার দক্ষতা অর্জন করা। বিভিন্ন ধরনের ভিন্নধর্মী বল নিয়ে রেন্জ হিটিংয়ের অনুশীলনের মাধ্যমে হাত ও চোখের সমন্বয় এবং নিখুঁত ব্যাটের সুইং ধরে রাখার এই কঠিন প্রক্রিয়াই দীপ্তির ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে নতুন মোড় দেওয়ার প্রধান অস্ত্র হয়ে ওঠে।