অস্ট্রেলিয়ার দুর্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অঘটন ঘটানোর স্বপ্ন ও মরণপণ লড়াইয়ের প্রস্তুতি

চলতি বছরের ২৯ মার্চ মাত্র অষ্টম ওয়ানডে খেলতে নেমেছিলেন ২২ বছর বয়সী অশ্বিনী মুনিসার। ক্যারিয়ারের সেই বিশেষ দিনে প্রতিপক্ষ ব্যাটার জর্জিয়া ভলকে সাজঘরে ফিরিয়ে তিনি নিজের সক্ষমতার জানান দিয়েছিলেন। তবে আসল রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছিল এলিস পেরির মুখোমুখি হওয়ার সময়। ছোটবেলা থেকে যাকে আইডল মানেন, সেই কিংবদন্তি পেরির ক্যাচটি মাথার ওপর হাত তুলে লুফে নেওয়ার পর মুনিসারের সেই উদযাপনের দৃশ্য আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে লেগে আছে। ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউস সেই মুহূর্তকে বর্ণনা করেছিলেন সীমানা দড়ি পর্যন্ত ১০০ মিটারের এক অবিশ্বাস্য দৌড় হিসেবে।
মূলত ছোটবেলা থেকে যেসব তারকাকে ক্রিকেটের রাজত্ব করতে দেখেছেন, এখন তাদের বিপক্ষেই লড়াইয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নতুনরা। নকআউট পর্বের এই কঠিন লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া বরাবরের মতোই ফেভারিট। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউস খোলাসা করেছেন, তাদের হারানোর কিছু নেই বলেই তারা এই ম্যাচে অকুতোভয়। সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করার জেদই এখন দলের প্রধান চালিকাশক্তি। দীর্ঘদিনের পরিচিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের অস্থির পারফরম্যান্সের ধারা কাটিয়ে একটি অবিশ্বাস্য জয়ের স্বপ্ন দেখছে তারা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়া যেকোনো দলের জন্যই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জানে, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বধ করতে হলে কেবল ম্যাথিউস কিংবা ডিয়ান্ড্রা ডটিনের ব্যক্তিগত ঝলকই যথেষ্ট নয়, পুরো দলের সম্মিলিত অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রয়োজন। অন্যদিকে অ্যাশ গার্ডনারের মতো অভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা ডটিন বা টেলরের মতো তারকাদের সামর্থ্য সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিবহাল। তারা জানেন, ডটিন যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
ওভালের ছোট বাউন্ডারির পিচ সাধারণত রানবন্যা উপহার দেয়, যেখানে টস জয়ী দলের জন্য রান তাড়া করা কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক হবে। চিনেলে হেনরিকে নিয়ে সামান্য সংশয় থাকলেও ম্যাথিউস আশ্বস্ত করেছেন, তিনি পুরোপুরি ফিট। অন্যদিকে স্পিন সহায়ক কন্ডিশন বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়া দলে অ্যালানা কিংকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাব্য একাদশে থাকছেন কিয়ানা জোসেফ, হেইলি ম্যাথিউস, শেমাইন ক্যাম্পবেল, স্টেফানি টেলর, ডিয়ান্ড্রা ডটিন, চিনেলে হেনরি, জাহজারা ক্ল্যাক্সটন, জ্যানিলিয়া গ্ল্যাসগো, আলিয়া অ্যালেন, অ্যাফি ফ্লেচার এবং অশ্বিনী মুনিসার। অস্ট্রেলিয়ার একাদশ সাজানো হতে পারে বেথ মুনি, জর্জিয়া ভল, ফিবি লিচফিল্ড, এলিস পেরি, অ্যাশ গার্ডনার, জর্জিয়া ওয়েরহ্যাম, অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড, নিকোলা ক্যারি, সোফি মলিনাক্স, কিম গার্থ এবং অ্যালানা কিংকে নিয়ে। নকআউট লড়াইয়ে কার জয় হবে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।