ব্যর্থতার গ্লানি মুছে আথাপাত্তুর বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে সেমির লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত চামারি আতাপাত্তু নিজেকে অধিনায়ক হিসেবে ব্যর্থ বলে আক্ষেপ করেছিলেন। তবে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে মাঠে ফিরেই আইরিশদের বিপক্ষে এক বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার সেমিফাইনালের ক্ষীণ আশাকে বাঁচিয়ে রাখলেন লঙ্কান দলপতি। ৬১ বলে অপরাজিত ১০৬ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে তিনি প্রমাণ করলেন কেন তাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার বলা হয়। তার এই একক নৈপুণ্যে আয়ারল্যান্ডকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা।

বিজ্ঞাপন

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ডের শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। দলীয় রানের খাতা খোলার আগেই এমি হান্টার রান আউটের শিকার হন। এরপর ওর্লা প্রেন্ডারগাস্ট এবং রেবেকা স্টোকেল দ্রুত বিদায় নিলে মাত্র ১৯ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল আইরিশরা। তবে অধিনায়ক গ্যাবি লুইস ৫০ বলে ৫৯ রানের দায়িত্বশীল এক ইনিংস খেলে দলের হাল ধরেন। শেষদিকে অ্যালিস টেকটরের ২১ বলে অপরাজিত ২৮ রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩০ রানের সংগ্রহ পায় আয়ারল্যান্ড। লঙ্কানদের হয়ে মিতালি অয়োধ্যা ১৮ রানে ১ উইকেট শিকার করেন।

১৩১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন চামারি আতাপাত্তু। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারেই লঙ্কানরা তুলে নেয় ৫৫ রান। আতাপাত্তু তার ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ৩০ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। ওপেনিং জুটিতে ৯৮ রান আসার পর ইমেশা দুলানি ২০ রান করে আউট হলেও জয়ের পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি সেটি। আতাপাত্তু তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৫৮ বলে। তার ১৭টি চার এবং ২টি ছক্কার বিধ্বংসী ইনিংসের সুবাদে ১৫ দশমিক ৩ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।

আয়ারল্যান্ডের বোলাররা লঙ্কান অধিনায়কের সামনে কার্যত অসহায় ছিলেন। ওর্লা প্রেন্ডারগাস্ট ১টি উইকেট পেলেও বাকিরা ছিলেন খরুচে। শেষ পর্যন্ত আতাপাত্তুর বাউন্ডারিতেই নিশ্চিত হয় লঙ্কানদের ৯ উইকেটের জয়। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে লড়াইয়ে টিকে থাকল লঙ্কানরা। ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ১৩০ রান করে ৫ উইকেটের বিনিময়ে, জবাবে শ্রীলঙ্কা ১ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে জয় তুলে নেয়।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%