প্রসিধের বিধ্বংসী স্পেল ও জয়সওয়ালের সেঞ্চুরিতে আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করল ভারত

ধর্মশালায় সিরিজের শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর জন্য। পাঁচ ওভারে সাত রান রেটে বল করে ছন্দহীনতা ফুটে উঠেছিল তার বোলিংয়ে, যার ফলে লক্ষ্ণৌর দ্বিতীয় ওয়ানডে থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল তাকে। তবে চেন্নাইয়ের ফিরতি ম্যাচে সুযোগ পেয়েই যেন আগুনে ফর্মে ফিরলেন এই পেসার। পিচের বাড়তি বাউন্স ও সুইংকে কাজে লাগিয়ে পাওয়ারপ্লেতে আফগান টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিয়ে মাত্র ৬ রানে ৪ উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষকে ৩৬ রানে ৪ উইকেটে পরিণত করেন তিনি। পরবর্তীতে আফগান অধিনায়ককে সাজঘরে পাঠিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই ডানহাতি পেসার।

বিজ্ঞাপন

২১৯ রানের মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যশস্বী জয়সওয়াল যেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। সিরিজের আগের ম্যাচগুলোতে নিজেকে মেলে ধরতে না পারার আক্ষেপ মিটিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। রোহিত শর্মা শুরুটা কিছুটা সতর্কভাবে করলেও জয়সওয়াল ছিলেন চড়াও। প্রথম ১০ ওভারে ভারত ৮৬ রান তুলে জয়সওয়ালের হাত ধরে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায়। মাত্র ৩৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে ৮৩ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১০ রানে অপরাজিত থেকে ২১ ওভার হাতে রেখেই দলকে অনায়াস জয় এনে দেন জয়সওয়াল।

সাবেক অধিনায়ক রোহিত শর্মার ফর্ম নিয়ে চলা গুঞ্জনকে থিতু করেছেন তার ব্যাট। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার শুরুতে রক্ষণাত্মক থাকলেও মধ্যবর্তী ওভারে রানের গতি বাড়িয়েছেন দারুণভাবে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের সেরা স্পিনার রশিদ খানের বিরুদ্ধে তার ব্যাটিং ছিল দেখার মতো। রশিদের বিপক্ষে ২৪ বলে ৪২ রান সংগ্রহ করেন রোহিত, যার স্ট্রাইকরেট ছিল ১৭৫। পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কার সমন্বয়ে ৬২তম ওয়ানডে অর্ধশতক তুলে নিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ আবারও দিলেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।

অন্যদিকে টপ অর্ডারের করুণ বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরেছিলেন আফগান অধিনায়ক হাসমতুল্লাহ শাহিদি। চরম চাপের মুখে দাঁড়িয়ে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দলকে একাই টেনেছেন তিনি। আজমতুল্লাহ ওমরজাইয়ের সাথে ১০৫ রানের জুটি গড়ার পর মোহাম্মদ নবীর সাথে যোগ করেন আরও ৫৭ রান। দলের দুর্দিনে বুক চিতিয়ে লড়াই করা শাহিদি শেষ দিকে দলের নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত তিনি ব্যক্তিগত শতক হাঁকিয়ে দলের সংগ্রহকে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পর শেষ ব্যাটার হিসেবে সাজঘরে ফেরেন।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%