স্মৃতি ও শেফালির বিধ্বংসী ওপেনিং জুটিতে বিশ্বজয়ের স্বপ্নে বিভোর ভারত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতীয় নারী দলের উদ্বোধনী জুটির দাপট বুঝিয়ে দিল, বড় স্বপ্নের পথে ছুটতে প্রস্তুত স্মৃতি মান্ধানা এবং শেফালি ভার্মা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে এই দুই ব্যাটারের ব্যাটে ভর করে ভারত যেভাবে মাঠ কাঁপিয়েছে, তা যেমন তৃপ্তিদায়ক, তেমনি প্রতিপক্ষ শিবিরের জন্য সতর্কবার্তা। বল হাতে মির্থ ফন ডেন রাড শুরুতেই অতিরিক্ত রান বিলিয়ে দিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিলেন দলকে। সেই সুযোগটিই লুফে নেন ভারতের এই দুই ওপেনার। নবম ওভারেই তাদের জুটির রান পূর্ণ হয় ৫০। শেষ পর্যন্ত তাদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে ভারত গড়ে তোলে বড় পুঁজি। যদিও মাঝপথে শেফালি এবং মান্ধানার বিদায়ের পর ব্যাটিং লাইনআপের কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছিল, তবুও তাদের সম্মিলিত নৈপুণ্য ভারতীয় দলকে জয়ের শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেয়।
মাঠে মান্ধানা ও শেফালির রসায়ন যেন এক অনন্য কাব্য। শেফালির বিধ্বংসী মেজাজ আর মান্ধানার শৈল্পিক ব্যাটিংয়ের মিশেল বিপক্ষ বোলারদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। ম্যাচের পর শেফালি নিজেই খোলাসা করলেন তাদের সফলতার পেছনের মন্ত্র। তিনি বলেন, যখনই আমি মারমুখী হওয়ার নেশায় থাকি, মান্ধানা আমাকে শান্ত রাখে। মাঠের ভেতর একজন অন্যজনকে পরামর্শ দেওয়া, স্ট্রাইক রোটেট করা এবং বোলার অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার এই বোঝাপড়াই তাদের জুটিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা করে তুলেছে। দীর্ঘদিন একসাথে খেলার সুবাদে তারা একে অপরের খেলার ধরন ও মনস্তত্ত্ব খুব ভালোভাবেই জানেন।
বিশ্বমঞ্চে ভারতের সাফল্যের ভাগ্য অনেকাংশেই এই দুই ওপেনারের ওপর নির্ভরশীল। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে সফল উদ্বোধনী জুটি মান্ধানা ও শেফালি। কেবল রান তোলার সংখ্যাই নয়, শ্রীলঙ্কা বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ধীরগতির উইকেটেও তাদের ব্যাটিংয়ের গতি ছিল ঈর্ষণীয়। ভারতের বর্তমান ব্যাটিং লাইনআপে হারমানপ্রীত কৌর বা জেমিমাহ রদ্রিগেজরা থাকলেও মিডল অর্ডারের ভঙ্গুরতা ঢাকতে এই দুই ওপেনারের বড় ইনিংস খেলা এখন অনেকটা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইংল্যান্ড সফরের জড়তা ঝেড়ে ফেলে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এই শত রানের পার্টনারশিপ মান্ধানা ও শেফালির আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আগে এমন ছন্দ খুঁজে পাওয়া ভারতের জন্য দারুণ স্বস্তির। শেফালি নিজেও বেশ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানিয়েছেন, তারা এই ফর্ম সামনের ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা ভারতীয় দলের ব্যাটিং স্তম্ভ এখন পুরোপুরি প্রস্তুত প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ সামলাতে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াইয়ে শেফালি ও মান্ধানা তাদের এই দুর্দান্ত ফর্ম কতটা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেন।