অস্ট্রেলিয়ার দাপটে দিশেহারা দক্ষিণ আফ্রিকা টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৬৫ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাফানা বাফানার হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়াপ্রেমীরা যখন চরম হতাশায় নিমজ্জিত, তখন তাদের প্রত্যাশা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নারী দলের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর। কিন্তু ওল্ড ট্রাফোর্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েরা যেন সেই একই অন্ধকার গহ্বরে হারিয়ে গেল। ৬৫ রানের বড় ব্যবধানে হার দিয়ে আসর শুরু করা প্রোটিয়াদের পারফরম্যান্স মাঠের লড়াইয়ে ছিল একেবারেই মলিন ও লক্ষ্যহীন।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের শুরুতেই টস ভাগ্য কথা বলেছিল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে। সোফি মলিনেক্স টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং চার স্পিনার নিয়ে সাজানো শক্তিশালী দল নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন। ব্যাট হাতে লরা উলভার্ট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান ভরসা হলেও, ম্যাচের ৪৩টি বলেই তিনি ছিলেন নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে। নিজের খেলা ৩৯ বলে ৪৪ রান করলেও, ডট বলের আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তার স্ট্রাইক রেট ১১২.৮২, যা তার ক্যারিয়ারের গড়ের তুলনায় বেশ নিচে। উলভার্ট মাঠের খেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারায় প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইনআপ যেন খেই হারিয়ে ফেলে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে ছিল বড় ধরনের অস্পষ্টতা। কোচ মান্ডলা মাশিমবিয়ের পরিকল্পনা যেন খেলোয়াড়দের কাছে ছিল দুর্বোধ্য। অ্যানেরি ডার্কসেনকে তিন নম্বরে নামানো হলেও কিম গার্থের গতির সামনে তিনি দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন। চার নম্বরে ব্যাটিং করা নাদিন ডি ক্লার্ক ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, কেন তাকে সেই পজিশনে পাঠানো হয়েছিল তা তার জানা নেই। এমন সমন্বয়হীনতা দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এদিকে শততম টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলতে নামা মারিজান কাপ পাঁচ নম্বরে নেমেও দলকে পথ দেখাতে পারেননি।

অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য বজায় থাকা এই টুর্নামেন্টে সাতবারের শিরোপা জয়ের পথে তারা আবারও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে কি না, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার টানা ফাইনাল খেলার ধারাবাহিকতা কি এবারই ভাঙতে চলেছে, এমন শঙ্কায় এখন ভক্তরা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১২ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার মাত্র ২টি জয় তাদের পিছিয়ে থাকার চিত্রটিই স্পষ্ট করে।

বিজ্ঞাপন

তবে হতাশার মধ্যেও আশার আলো দেখছেন অনেকে। বুধবার এজবাস্টনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর মোক্ষম সুযোগ। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পাকিস্তানের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের রেকর্ড বেশ ইতিবাচক হলেও, বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় তাদের জন্য পথটা খুব একটা সহজ হবে না। শনিবারের দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে পাকিস্তান ম্যাচে প্রোটিয়ারা তাদের সেরাটা দিতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

0%
0%
0%
0%