আইপিএল ২০২৬ দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাট ও রাজস্থানের বাঁচা-মরার মহারণ

এলিমিনেটরের সেই বিধ্বংসী ঝড়ের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মাঠে নামছে রাজস্থান রয়্যালস ও গুজরাট টাইটান্স। মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে বৈভব সূর্যবংশীর সেই অতিমানবীয় ইনিংসের ঘোর এখনো কাটেনি ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ থেকে। ফাইনালে ওঠার এই মহালড়াইয়ে গুজরাটের মুখোমুখি হতে যাওয়া রাজস্থানের তুরুপের তাস অবশ্যই এই তরুণ তুর্কি, তবে মাঠের বাইরের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই এবং রণকৌশলের সমীকরণ এই ম্যাচকে করে তুলেছে আরও বেশি রোমাঞ্চকর।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুজরাট টাইটান্স মাঠে নামছে একরাশ চাপ মাথায় নিয়ে। ধরমশালায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে শেষ ম্যাচে রানের পাহাড়ে চাপা পড়েছিল তারা। বিশেষ করে ইনিংসের দ্বিতীয়ার্ধে গুজরাটের বোলিং লাইনআপকে তছনছ করে মাত্র ১০ ওভারে ১৫৫ রান তুলে নিয়েছিল বেঙ্গালুরু। এই ধরনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে যেকোনো দলেরই বেশ কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু ঠাসা সূচির এই প্লে-অফের মঞ্চে সেই আত্মতুষ্টির বা ঘুরে দাঁড়ানোর বাড়তি সময় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে রাজস্থানের টপ-অর্ডারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ঠিক বিপরীতে গুজরাটের ব্যাটিং লাইনআপে দেখা গেছে নজিরবিহীন ধস। পাওয়ারপ্লে-র মধ্যেই তাদের তিন প্রধান ভরসা শুভমান গিল, সাই সুদর্শন এবং জস বাটলার সাজঘরে ফেরেন, যা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো ঘটল। মাত্র ৬ ওভারের মধ্যে ৫১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় টাইটান্সরা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো আর সম্ভব হয়নি তাদের পক্ষে।

গুজরাটকে প্রায়শই একটি নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেখানে উদ্বোধনী জুটি বড় সংগ্রহ এনে দেবে, কাগিসো রাবাদা ও মোহাম্মদ সিরাজ শুরুতে প্রতিপক্ষ শিবিরে আঘাত হানবেন এবং রশিদ খান ও জেসন হোল্ডার মিলে মাঝের ওভারগুলোতে রানের চাকা টেনে ধরবেন। তবে ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে দলের সহকারী কোচ পার্থিব প্যাটেল এই তত্ত্বটি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নিজেদের স্বকীয় ক্রিকেট খেলেই গত সপ্তাহ পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে দাপটের সঙ্গে অবস্থান করছিল তার দল।

বিজ্ঞাপন

তবে সাফল্যের চাদরের নিচে কিছু অস্বস্তিকর সত্যও লুকিয়ে আছে গুজরাটের জন্য। ২০২৫ সাল থেকে শুরু করে ২১০-এর বেশি রান তাড়া করতে গিয়ে ৭টি ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছে টাইটান্সরা। এর ওপর শেষ ৩ ম্যাচের ২টিতেই তারা ২৪০-এর বেশি রান হজম করেছে, যা তাদের বোলিং আক্রমণের দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে তোলে।

মুল্লানপুরের তুলনামূলক বড় মাঠে পাওয়ারপ্লে-র সংগ্রহ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। এখানে সূর্যবংশী ও যশস্বী জয়সোয়ালের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের বিপরীতে সুদর্শন ও গিলের রক্ষণাত্মক অথচ কার্যকর কৌশলের এক দারুণ দ্বৈরথ দেখা যাবে। রাজস্থানের বিধ্বংসী টপ-অর্ডার যদি শুরুতেই চড়াও হতে পারে, তবে গুজরাটের জন্য ম্যাচে ফেরা বেশ কঠিন হবে। অবশ্য চলতি মৌসুমে মাঝের ওভারগুলোতে (৭ থেকে ১৫ ওভার) সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব গুজরাটেরই। তাদের স্ট্রাইক-রেট সবচেয়ে ভালো এবং ডট বলের শতকরা হারও সবচেয়ে বেশি, যা রাজস্থানের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।

ম্যাচের ভেন্যুতে বৃষ্টির কিছুটা পূর্বাভাস রয়েছে। চণ্ডীগড়ে ম্যাচ চলাকালীন বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ১৫ শতাংশের কাছাকাছি। তবে দুপুরের তীব্র গরম এবং ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা খেলোয়াড়দের বেশ ভালোই পরীক্ষা নেবে। দ্বিতীয় ইনিংসে শিশিরের প্রভাব মোকাবিলা করতে মাঠকর্মীদের দড়ি ও ম্যাট নিয়ে বেশ সজাগ থাকতে দেখা গেছে।

পরিসংখ্যানের পাতায় সামগ্রিক মুখোমুখি লড়াইয়ে গুজরাট ৭-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও, ২০২৫ সালের পর থেকে লড়াইটি ২-২ সমতায় রূপ নিয়েছে। ইনজুরির শঙ্কা থাকলেও রিয়ান পরাগ এবং রবীন্দ্র জাদেজা দুজনেই খেলবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রিয়ান পরাগ পুরোপুরি ফিট না হলেও মাঠের লড়াইয়ে নামতে মুখিয়ে আছেন। গুজরাট শিবিরে অবশ্য নতুন কোনো ইনজুরির খবর নেই।

এই ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বৈরথ হতে চলেছে জফরা আর্চার বনাম শুভমান গিলের লড়াই। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে গিলকে ৭ ইনিংসে ৩ বার আউট করেছেন আর্চার, যেখানে গিলের ব্যাটিং গড় মাত্র ৭.২০ এবং স্ট্রাইক রেট ১২০। নেটে গুরনুর ব্রারের বাড়তি বাউন্সে গিলকে কিছুটা ভুগতে দেখা গেছে, যা আর্চারকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ বোলারদের নিয়ে কোনো ভয়ডর না থাকা সূর্যবংশীকে থামাতে রাবাদা ও সিরাজের পাওয়ারপ্লে স্পেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। গত বছর এই গুজরাটের বিপক্ষেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছিলেন এই তরুণ তুর্কি, যার উইকেট নিতে মরিয়া থাকবে টাইটান্সরা।

0%
0%
0%
0%