অধিনায়ক রজত পাতিদারের দাপুটে নেতৃত্বে ২০২৬ আইপিএলের ফাইনালে আরসিবি

অধিনায়ক রজত পাতিদারের বিধ্বংসী ব্যাটিং ও অসাধারণ নেতৃত্বের ওপর ভর করে গুজরাট টাইটান্সকে উড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএলের ফাইনালে উঠেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ধর্মশালার কঠিন উইকেটে মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত ৯৩ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন পাতিদার। বেঙ্গালুরুর এই দাপুটে জয়ের নেপথ্যে ছিল পুরো দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্স, যা তাদের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।
ম্যাচ শেষে দলের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট মো বোব্যাট অধিনায়কের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি রসিকতা করে জানান, একসময় তিনি পাতিদারকে কেবল ‘স্পিন স্পেশালিস্ট’ বা স্পিনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ব্যাটার হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন, যা পাতিদার মোটেও পছন্দ করেননি। এবার পেস ও স্পিন দুই বিভাগেই নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করে যেন বোব্যাটকে একটি কড়া বার্তা দিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। কাগিসো রাবাদার মতো এক্সপ্রেস পেসারকে ব্যাক-ফুটে কাভারের ওপর দিয়ে মারা দুর্দান্ত ছক্কাটিই ছিল তার আগ্রাসী বডি ল্যাঙ্গুয়েজের সেরা উদাহরণ।
বোব্যাট বলেন, বল পেস বা স্পিন যা-ই হোক না কেন, ফ্রন্ট-ফুট বা ব্যাক-ফুট—সবখানেই পাতিদারের ব্যাটের মাঝখান দিয়ে বল সীমানা পার হচ্ছে। তার ব্যাটিংয়ের ব্যাকরণ অত্যন্ত মজবুত এবং ভীতিহীন মানসিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ কোয়ালিফায়ার ম্যাচে অধিনায়কের এমন দায়িত্বশীল ও বিধ্বংসী ইনিংস পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
মাঠের বাইরে শান্ত ও সংযত স্বভাবের পাতিদার কীভাবে নিজের শক্তি সঞ্চয় করে সঠিক সময়ে প্রয়োগ করেন, সেই কৌশলও তুলে ধরেন বোব্যাট। তিনি জানান, পাতিদার মাঠের বাইরের সমস্ত আলোচনা থেকে নিজেকে দূরে রেখে সম্পূর্ণ মনোযোগ কেবল নিজের দায়িত্ব পালনে ধরে রাখেন। এই মানসিক প্রশান্তিই তাকে মাঠে সঠিক রণকৌশল সাজাতে এবং ব্যাট হাতে রানের পাহাড় গড়তে সাহায্য করছে।
শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নয়, দলের সার্বিক পারফরম্যান্সেও দারুণ সন্তুষ্ট বেঙ্গালুরু শিবির। বোব্যাটের মতে, গত মৌসুমের মতোই এবারও দলের প্রত্যেক সদস্য নিজের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করছেন। চাপের মুখে প্রতিপক্ষকে পাল্টা আক্রমণ করা কিংবা পরিস্থিতি বুঝে ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ বের করে আনার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দলে থাকায় যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হচ্ছে।
গুজরাট টাইটান্সের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলার পরিকল্পনা ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। বোব্যাট স্বীকার করেন, গুজরাটের টপ-অর্ডার অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় রান তাড়া করে জেতা কঠিন করে তোলাই ছিল তাদের লক্ষ্য। প্রথম বল থেকেই সেই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ক্রিকেটাররা।
টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এবার আহমেদাবাদের ফাইনালে মাঠে নামবে বেঙ্গালুরু। আইপিএলের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার অনন্য কীর্তি গড়ার সুযোগ এখন তাদের সামনে। ফাইনালের মঞ্চে দলগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ থাকবে অধিনায়ক পাতিদারের ব্যাটের দিকেই।