কলম্বো টেস্টে পন্তের অদম্য লড়াই আর ধ্রুব জুরেলের সেঞ্চুরিতে চাপে শ্রীলঙ্কা

কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিনে শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণের সামনে ঋষভ পন্তের দৃঢ়তা যেন এক অবিশ্বাস্য চিত্রনাট্য হয়ে রইল। প্রথম দিনের শেষে হাতের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ার পর পন্তের ফেরা নিয়ে যখন শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুমে দোলাচল, তখন সকালের সেশনেই মাত্র ১১ বলের মাথায় ধ্রুব জুরেলের সঙ্গী হয়ে মাঠে নেমে পড়েন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। তার এই লড়াইকে কেবল শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা বললে কম বলা হয়, এটি ছিল পন্তের অদম্য মানসিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ। শ্রীলঙ্কার পেসাররা শর্ট বলের পসরা সাজালেও পন্ত তা সামলেছেন নিজের চিরচেনা আগ্রাসী মেজাজে, যা পুরো সেশনজুড়ে মাঠের লড়াইকে করে তুলেছিল কেবল শ্রীলঙ্কা বনাম পন্তের দ্বৈরথ।

পন্তের সেই ঝোড়ো ইনিংসের আড়ালে ধ্রুব জুরেলের ব্যাটিং ছিল এক নিভৃত শিল্পের মতো। ভারতের বর্তমান টেস্ট দলে জুরেল এমন এক অপরিহার্য সম্পদ হয়ে উঠেছেন, যিনি শুধুমাত্র উইকেটরক্ষক নন, বরং বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবেও নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন। কলম্বো টেস্টে ভারতের তিন ব্যাটারের মধ্যে জুরেল অন্যতম, যিনি ১০০টির বেশি বল মোকাবেলা করেছেন। তার ৮.৪ শতাংশ ভুল শট খেলার হার দলের বাকিদের তুলনায় ঈর্ষণীয়, যেখানে তার নিয়ন্ত্রণ বা কন্ট্রোল পার্সেন্টেজ ৯১.৬, যা পন্তের ৮৪.৩ শতাংশের চেয়েও বেশ কিছুটা বেশি।

জুরেলের ব্যাটিং কৌশলের প্রশংসা করে রাঠোর জানান, বর্তমান সময়ে এমন নিখুঁত টেকনিকের ব্যাটার খুব একটা দেখা যায় না। নেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করা জুরেলের মধ্যে সবসময় উন্নতির তাড়না কাজ করে। কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার স্পিনার কেশারা নুয়ানথা ও প্রবাথ জয়াসুরিয়ার বিপক্ষে জুরেলের রক্ষণাত্মক ভঙ্গি ছিল অসাধারণ। দ্বিতীয় দিনে পিচে বলের টার্ন বা ঘূর্ণি ২৪.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৯.৪ শতাংশে পৌঁছালেও জুরেল স্পিনারদের বিপক্ষে ১০১ বলে ৫৬ রান তুলে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। পেসারদের সাতটি বাউন্সার মোকাবেলা করে কোনো সুযোগ না দিয়েই তিনি ১৫ রান সংগ্রহ করেন।

গলেতে ফিফটি হাঁকানোর পর কলম্বোতে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া জুরেল এখন ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের নির্ভরতার প্রতীক। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড সফরে ‘এ’ দলের হয়ে পারফর্ম করার পর থেকে তিনি নির্বাচকদের জন্য তাকে উপেক্ষা করা অসম্ভব করে তুলেছেন। আগে যেখানে পন্ত অথবা জুরেল—এই দ্বিধায় ছিল ভারত, সেখানে বর্তমানে দুই উইকেটরক্ষকের উপস্থিতি ভারতীয় দলকে কৌশলগতভাবে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করেছে। পন্তের আক্রমণাত্মক মেজাজ আর জুরেলের অবিচল ধৈর্য—এই দুইয়ের সমন্বয়ে ভারত এখন বিদেশের মাটিতেও নিজেদের শক্ত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করার রসদ খুঁজে পেয়েছে।

০%
০%
০%
০%