ফিফা সভাপতির পদ নিয়ে উত্তাল বিশ্ব ফুটবল বিতর্ক তুঙ্গে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায়

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। তার গৃহীত বিতর্কিত বিশ্বকাপ বিনিয়োগ পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। এমন টালমাটাল পরিস্থিতিতে উয়েফার সহ-সভাপতি লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতের ফিফা সভাপতিকে অবশ্যই খেলার অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং বিশ্ব ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার সক্ষমতা থাকতে হবে।
রবাতে বুধবার অনুষ্ঠিত ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের সভায় ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ বিনিয়োগ পরিকল্পনার ভুলত্রুটির জন্য ফিফা তাদের ২১১টি সদস্য দেশের কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ফিফার এই উদ্যোগের পরেও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও শাসনপদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের আগে ফিফার অন্দরমহলে অস্বস্তি বেড়েই চলেছে।
লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার একটি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন যে, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একজন বিশ্বাসযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে পাওয়া বেশ জটিল। কারণ কোনো প্রার্থীকেই কেবল ইউরোপ নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের সব সদস্য দেশের সমর্থন অর্জন করতে হবে। ফুটবল বিশ্বের রাজনীতি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় এমন একজনকে খুঁজে বের করা জরুরি, যিনি পুরো বিশ্বকে এক সুতোয় বাঁধতে পারবেন। তিনি মনে করেন, ফুটবলের আধুনিকায়নের জন্য নেতৃত্ব কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
ফুটবল যেন কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কব্জায় না থাকে, বরং গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিচালিত হয়—সেই আহ্বানে সোচ্চার হয়েছেন ওয়েলসের নারী দলের সাবেক এই অধিনায়ক। তার মতে, ফুটবলের নেতৃত্বের সংস্কৃতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনা ছাড়া এই সংকট উত্তরণ সম্ভব নয়। লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার আরও জোর দিয়ে বলেন, ফুটবল কেবল ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক স্বার্থের হাতিয়ার নয়; তৃণমূল থেকে শুরু করে অভিজাত পর্যায় পর্যন্ত সব স্তরের মানুষের কাছে এই খেলার সুফল পৌঁছে দেওয়াটাই প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত।
ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক সাবসিডিয়ারি তৈরি এবং ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ থেকে আয়ের অংশ বহিরাগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা বাতিলের পর থেকেই নেতৃত্বের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। লরার মতে, ফিফার নেতৃত্বে যেকোনো পরিবর্তন আসতে হলে তা ফুটবলের মূল আদর্শে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমেই হতে হবে। কেবল বিত্তবান দেশ নয়, বরং বিশ্বের দরিদ্রতম প্রান্তেও ফুটবলের জয়গান ছড়িয়ে দেওয়া এবং লিঙ্গভেদে সবার জন্য খেলার সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
