Advertisement

গাজায় ফুটবল উৎসবের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আল ওয়াহিদি ইসরায়েলি হামলায় নিহত

মিশর ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার অত্যন্ত প্রতীক্ষিত ফুটবল ম্যাচের ঠিক আগের মুহূর্তে গাজায় এক মর্মান্তিক বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি। গাজা সিটির সাবরা এলাকায় একটি ট্যাক্সিতে থাকা অবস্থায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় তিনিসহ মোট ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ ও ৮ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, অপর নিহত ব্যক্তি হলেন ৩০ বছর বয়সী আহমেদ জিহাদ রজব ডগমশ।

সাতান্ন বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি গাজায় মিশরীয় ত্রাণ কমিটির জনসংযোগ পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে একটুখানি আনন্দ ফিরিয়ে আনতে তিনি মাঠ পর্যায়ে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচগুলো দেখানোর আয়োজন করেছিলেন। বাস্তুচ্যুত এবং বিপন্ন মানুষের জন্য তার এই উদ্যোগ গাজায় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। মিশরীয় দলের সমর্থক গাজার মানুষের কাছে এই ম্যাচগুলো ছিল যুদ্ধের বিভীষিকার মাঝে এক টুকরো স্বস্তি।

বিজ্ঞাপন

আল-ওয়াহিদির পুত্র ফাওয়াজ টেলিফোনে রয়টার্সকে জানান, তার বাবা সর্বদা চেষ্টা করতেন শরণার্থী শিবির ও বিধ্বস্ত আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের ফুটবলের উন্মাদনায় শামিল করতে। অথচ সেই খেলার মাঠের আমেজ উপভোগ করার আগেই নির্মম এক হামলায় তাকে প্রাণ দিতে হলো। আল-ওয়াহিদি কেবল একজন ত্রাণকর্মীই ছিলেন না, বরং স্থানীয়দের বিবাদ মেটানো এবং দুস্থদের অন্ন জোগানোর ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন এক শ্রদ্ধেয় অভিভাবক।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর থেকে গাজাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার শত শত মানুষের উপস্থিতিতে ফিলিস্তিন ও মিশরের পতাকায় মোড়ানো অবস্থায় তাকে সমাহিত করা হয়। রয়টার্সের তথ্যমতে, মিশরীয় গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, মিশরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আল-ওয়াহিদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা গাজায় ত্রাণ কমিটির কার্যক্রমে বাধা প্রদান এবং ক্রমাগত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ১০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই তথাকথিত যুদ্ধবিরতির সময়েও অন্তত ১,০৯২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩,৫০৭ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ৭৩,১১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ফুটবলের জাদুকরী আনন্দ ছড়িয়ে দিতে গিয়ে জীবন হারানো মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদির মৃত্যু যেন গাজার সাধারণ মানুষের অসহনীয় কষ্টের এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে রইল।

0%
0%
0%
0%