মরক্কোর কাছে হারের পর বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার ডাচ ফুটবলাররা আইনি ব্যবস্থার পথে কেএনভিবি

বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায়ের ক্ষত না শুকাতেই নেদারল্যান্ডস ফুটবলে নেমে এসেছে বর্ণবাদের কালো ছায়া। মেক্সিকোর মন্টেরি শহরে সোমবার অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে পরাজয়ের পর ডাচ ফুটবলাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিকার হয়েছেন তীব্র বর্ণবাদী আক্রমণের। এই ঘৃণ্য আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রয়্যাল ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএনভিবি)। বিষয়টি নিয়ে সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে তারা।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচটিতে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে নির্ধারণ হয় ভাগ্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পেনাল্টি মিস করা তিন ডাচ তারকা জাস্টিন ক্লাইভার্ট, কুইন্টেন টিম্বার এবং ক্রিসেনসিও সামারভিলকে লক্ষ্য করে অনলাইনে অশালীন ও বর্ণবাদী মন্তব্য বর্ষণ করা হয়। কেএনভিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এমন বিদ্বেষমূলক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। যদিও ইন্টারনেটের অসীম জগতে সব অপরাধীকে চিহ্নিত করা কঠিন, তবুও একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতেই তারা আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটেছে। ফুটবলের মাঠে সহনশীলতার সীমা অতিক্রমকারীদের উপযুক্ত পরিণতির মুখোমুখি করার অঙ্গীকার করেছে ডাচ ফুটবল ফেডারেশন।

নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব ইয়েটেন এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যখন খেলোয়াড়রা কমলা রঙের জার্সি গায়ে জড়ান, তখন তারা সবাই ‘আমাদের ছেলে’। কিন্তু পেনাল্টি মিস করলেই গায়ের রঙ নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শুরু হয়, যা অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য।

ফুটবল বিশ্বে বর্ণবাদ নির্মূলে নেদারল্যান্ডস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। মাঠের লড়াইয়ে জয়-পরাজয় থাকবেই, তবে খেলোয়াড়দের সম্মান ক্ষুণ্ণ করে বর্ণবিদ্বেষ ছড়ানোর সুযোগ যে নেই, কেএনভিবি সেটিই আবারও বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিল। এখন দেখার বিষয়, আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%