গোয়াদালাহারায় রোমোর ম্যাজিকে নকআউট পর্বে মেক্সিকো

গোয়াদালাহারার গর্জনে মুখর স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে জায়গা করে নিলো স্বাগতিক মেক্সিকো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লুইস রোমোর করা একমাত্র গোলটি মেক্সিকোকে পৌঁছে দিয়েছে রাউন্ড অব ৩২-এর মঞ্চে। ঘরের মাঠে এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজেদের সমর্থকদের সামনেই পরের রাউন্ড খেলার আনন্দ নিশ্চিত করেছে মেক্সিকানরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি। পঞ্চদশ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার অধিনায়ক সন হিউং-মিন গোল করার একটি সুযোগ পেলেও মেক্সিকান ডিফেন্ডার এডসন আলভারেজের বাইসাইকেল কিকের নৈপুণ্যে বল গোললাইন থেকে ফিরে আসে। প্রথমার্ধের পুরোটা সময় বল নিয়ন্ত্রণে রেখে মেক্সিকোকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছিল সফরকারী দক্ষিণ কোরিয়া। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে কিছুটা হতাশার সুর থাকলেও বিরতির পরই চিত্র বদলে যায়।
ম্যাচের ৫০তম মিনিটে গোলরক্ষক কিম সিউং-গিউর ভুলে সহজ সুযোগ পেয়ে যান লুইস রোমো। হাই বল ধরতে গিয়ে নিজেদের ডিফেন্ডারের সঙ্গে সংঘর্ষে কিম বল হাত থেকে ফসকে ফেললে আলগা বলটি অনায়াসেই জালে জড়িয়ে দেন রোমো। এই গোলের পর স্টেডিয়ামজুড়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে হাজার হাজার সমর্থক। পিছিয়ে পড়ে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের অভিজ্ঞ তারকা সন হিউং-মিনকে তুলে নিয়ে হোয়াং হি-চ্যানকে মাঠে নামালেও মেক্সিকান রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হন তারা।
ম্যাচের শেষদিকে দক্ষিণ কোরিয়া মরিয়া হয়ে সমতাসূচক গোলের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তবে মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রেঞ্জেলের অবিশ্বাস্য ডাবল সেভ তাদের জয়ের পথ সুগম করে। ম্যাচের পর মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগুইরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, এটি ছিল স্নায়ুচাপের লড়াই, যেখানে একটি ভুলই হারের জন্য যথেষ্ট ছিল। যদিও খেলাটি খুব একটা নান্দনিক হয়নি, তবুও এই জয়কে তারা স্মরণীয় করে রাখতে চান।
এই ফলাফলের পর মেক্সিকো পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, আর চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহে ১ পয়েন্ট করে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে মেক্সিকো মুখোমুখি হবে চেক প্রজাতন্ত্রের এবং দক্ষিণ কোরিয়া লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। নিজেদের মাঠে সেরা ষোলোর লড়াই নিশ্চিত করায় এখন মেক্সিকোর লক্ষ্য কেবল নিজেদের দাপট বজায় রেখে টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাওয়া।