বিশ্বকাপ ঘিরে ইবোলা আতঙ্ক মার্কিন মুলুকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ সতর্কতা

বিশ্বকাপ ফুটবলের আবহে যখন মাঠের লড়াই নিয়ে উত্তাল উত্তর আমেরিকা, তখন নেপথ্যে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৬ সালের এই মেগা টুর্নামেন্ট ঘিরে সাড়ে ৬৫ লাখ ফুটবলপ্রেমীর আনাগোনা চলছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা জুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১০৪টি ম্যাচ। এমন বিশাল জনসমাগমে ইবোলার মতো সংক্রামক ব্যাধির ঝুঁকি একেবারে শূন্য নয় বলে মনে করছেন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা। তবে মার্কিন হাসপাতালগুলো এবার যে কোনো পরিস্থিতির জন্য অতীতের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত।
২০১৪ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় থমাস এরিক ডানকান নামের এক ব্যক্তির ডালাসের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ফিরে আসার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সংকটকালীন পরিস্থিতি সামলাতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইবোলা মোকাবিলার প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের জন্য ২৬ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে। বর্তমানে ১৩টি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা আক্রান্ত রোগীদের শনাক্তকরণ ও আইসোলেশনে রাখার সক্ষমতা নিশ্চিত করে। আটলান্টার এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ড. গ্যাভিন হ্যারিসের মতে, শতভাগ সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব না হলেও বর্তমান প্রস্তুতি ইতিহাসের সেরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি-এর ভাষ্যমতে, বিশ্বকাপ আয়োজক দেশগুলোতে ইবোলার ঝুঁকি অত্যন্ত কম। বরং হাম, কোভিদ-১৯ ও ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ভাইরাসগুলো বড় জমায়েতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি। তবে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলার প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক। কঙ্গোতে ইতিমধ্যে ৬৭৫ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং ১৩৫ জনের বেশি মৃত্যুবরণ করেছে। যদিও ইবোলা বায়ুবাহিত রোগ নয়, তবুও সতর্কতা হিসেবে কঙ্গো জাতীয় ফুটবল দল মে মাসে দেশত্যাগ করে বেলজিয়ামে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করেছে।
টুর্নামেন্ট চলাকালীন প্রতিটি আয়োজক শহরে ফিফা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ মেডিকেল কমিটি গঠন করেছে। বর্জ্য পানির পর্যবেক্ষণ, বাতাসের গুণমান পরীক্ষা এবং ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ডের মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে যে কোনো অস্বাভাবিক অসুস্থতার ক্লাস্টার শনাক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বতন্ত্র স্বাস্থ্য নিরাপত্তা অপারেশন সেন্টার স্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে ৭০টির বেশি রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান করছে।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। সিডিসির জনবল সংকট এবং জনস্বাস্থ্য খাতে বাজেট কাঁচির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. টম ফ্রিডেন সতর্ক করে বলেছেন যে, সিডিসির মতো প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বজায় রাখা জরুরি যাতে করে যে কোনো প্রাদুর্ভাব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। সরকারি সংস্থা থেকে দক্ষ জনবলের প্রস্থান জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও, মাঠে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে কোটি কোটি দর্শকের এই ফুটবল উৎসব কোনো স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।