বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নেইমারকে ছাড়াই মাঠে নামছে ব্রাজিল

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের জন্য বড় দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে নেইমার জুনিয়রের চোট। সান্তোসের হয়ে ঘরোয়া লিগে খেলার সময় পাওয়া চোটে শেষ পর্যন্ত মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পায়ের পেশির গ্রেড-টু ধরনের চোটের কারণে আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলোতে তার অংশগ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও তার খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
দলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার জানিয়েছেন, গ্রাঞ্জা কোমারিতে মেডিকেল পরীক্ষার পর এমআরআই স্ক্যানে নেইমারের পায়ের পেশিতে গুরুতর টান ধরা পড়েছে। প্রাথমিকভাবে শুধু ফোলা মনে হলেও মেডিকেল রিপোর্টে পেশির তন্তুর আংশিক ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। সুস্থ হয়ে উঠতে নেইমারের অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। অথচ এর আগে সান্তোসের চিকিৎসক রদ্রিগো জোগাইদ দাবি করেছিলেন, এটি কেবলই সাধারণ ফোলাভাব, যা দ্রুতই সেরে যাবে।
এই চোটের ফলে রবিবার মারাকানাতে পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ এবং পরবর্তীতে ক্লিভল্যান্ডে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটিতে দর্শক হয়েই থাকতে হবে নেইমারকে। শুধু তাই নয়, ১৩ই জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও তার মাঠে নামার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ১২৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯ গোল করা এই তারকার দীর্ঘ ক্যারিয়ার জুড়ে চোট যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্রাজিল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বর্তমানে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, মার্কুইনহোস এবং গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলিকে পাচ্ছেন না, কারণ তারা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ব্যস্ত থাকবেন। এমতাবস্থায় নেইমারের অনুপস্থিতি দলের আক্রমণভাগে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করবে। রয়টার্সের সাথে আলাপকালে আনচেলত্তি আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, আবেগ দিয়ে নয়, বরং ফিটনেস এবং ফর্মের ভিত্তিতেই বিশ্বকাপের একাদশ সাজানো হবে। এখন নেইমারকে ছাড়া পরিকল্পনা সাজানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেলেসাওদের জন্য।