১০২টি শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই ও পাঁচ সপ্তাহের তীব্র উত্তেজনার পর ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চ এখন চূড়ান্ত পরিণতির অপেক্ষায়। ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী আসরের পর এই প্রথমবার ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই স্প্যানিশ ভাষী দেশ। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন রবিবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে একে অপরের বিপক্ষে লড়বে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন, অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ হাসি হেসেছে আর্জেন্টিনা।
সেমিফাইনালে তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল তার ১৯তম জন্মদিনের ঠিক পরদিনই জাদু দেখিয়েছেন। তার কল্যাণে পাওয়া পেনাল্টি থেকে ২২তম মিনিটে মিকেল ওয়ারজাবাল স্পেনের হয়ে গোল করেন। দানি ওলমো, রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের চমৎকার সমন্বয়ে মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে রেখেছিল স্পেন। মার্ক কুকুরেয়া ও পেদ্রো পোরোর রক্ষণাত্মক দেয়াল টপকাতে হিমশিম খেয়েছে ফরাসি আক্রমণভাগ। ৫৮তম মিনিটে পোরোর গোল স্পেনের জয় নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, কোচ দিদিয়ে দেশমের অধীনে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ১৮৬তম ম্যাচে এসে শিষ্যদের কাছ থেকে এমন নিষ্প্রভ ফুটবল হয়তো প্রত্যাশা করেননি দেশম। এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শেষে জিদান দায়িত্ব নেবেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।
আর্জেন্টিনার পথচলাটা মোটেও সহজ ছিল না। টুর্নামেন্টের প্রথম পাঁচ ম্যাচে লিওনেল মেসির ওপর অতিনির্ভরশীলতা আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখেছিল। তবে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে এনজো ফের্নান্দেসের দূরপাল্লার গোল প্রমাণ করে যে, দল এখন আর কেবল একজনের ওপর নির্ভরশীল নয়। অতিরিক্ত সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের জয়সূচক গোলটি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পৌঁছে দেয়। এই গোল ও অ্যাসিস্টের মাধ্যমে মেসি ২০২২ সাল থেকে টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েছেন, যা গত ৬০ বছরের ইতিহাসে দীর্ঘতম।
ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল রক্ষণভাগ শক্ত করতে পাঁচজনের ডিফেন্স সাজালেও এনজো ফের্নান্দেসের সেই জ্বলে ওঠা শট ঠেকানো সম্ভব হয়নি। মার্কাস রাশফোর্ড বা বুকায়ো সাকাকে দেরিতে মাঠে নামানোয় ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগও তেমন ধার দেখাতে পারেনি। শেষ দিকে আর্জেন্টিনার ক্রমাগত চাপে ইংলিশ রক্ষণভাগ ভেঙে পড়লে স্বপ্নভঙ্গ হয় থ্রি লায়ন্সদের। আবেগঘন এক জয়ের পর লাউতারো মার্তিনেজ ও জুলিয়ানো সিমিওনে কেঁদে ফেলেন, যা মাঠের লড়াইয়ের উত্তাপকেই যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের চোখ রবিবার ফাইনালে, যেখানে মেসি বনাম স্প্যানিশ শক্তির লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।