ফিফা বিশ্বকাপের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডের লড়াইয়ে ছয়টি শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছে ফুটবল বিশ্ব। নকআউট পর্বের সমীকরণ মেলানোর এই সন্ধিক্ষণে নতুন ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে এক বিরল নজির স্থাপন করেছে। সৌদি আরবের সাথে গোলশূন্য ড্র করে জনসংখ্যার দিক থেকে ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে তারা সেরা বত্রিশে পা রেখেছে। বিপরীতে, ইরানের ভাগ্য ঝুলে আছে সুতোয়। মিশরের সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর সেরা তৃতীয় দলের তালিকায় নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করতে এখন অন্য ম্যাচের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। এর মধ্যেই ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমি ফিফার বিরুদ্ধে ভ্রমণ ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে টুর্নামেন্টের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
নিউ জার্সিতে আজ পানামার বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। রয়টার্সের প্রতিবেদন ও অপটা সুপার কম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ৭৮.৫ শতাংশ। ২০১৮ বিশ্বকাপে পানামাকে ৬-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার সুখস্মৃতি নিয়েই মাঠে নামবে থ্রি লায়ন্সরা। অন্যদিকে গ্রুপ এল-এর লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়া ও ঘানা প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৫তম স্থানে থাকা ঘানাকে হারাতে ক্রোয়েশিয়ার জয়ের সম্ভাবনা ৫৬.৩ শতাংশ বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
গ্রুপ কে-এর শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া ও পর্তুগাল। দুই দলের এই প্রথম মোকাবিলায় জয়ের ক্ষেত্রে পর্তুগাল ৫১.৬ শতাংশ এগিয়ে থাকলেও কলম্বিয়ার সামনে সুযোগ রয়েছে ড্র করেও গ্রুপ সেরা হওয়ার। এদিকে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ডিআর কঙ্গো লড়বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। নিজেদের প্রথম জয়ের সন্ধানে থাকা ডিআর কঙ্গোর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ৪৮.৯ শতাংশ। আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি হতে যাচ্ছে ১৯৮২ সালের পর এই দুই দলের প্রথম বিশ্বকাপ লড়াই। হাড্ডাহাড্ডি এই লড়াইয়ে ড্রয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, ৪২.১ শতাংশ।
বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জর্ডানের বিপক্ষে নামছে অপরাজেয় তকমা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে। তবে লিওনেল মেসিকে শুরুর একাদশে না রেখে বেঞ্চে রেখেই কৌশল সাজিয়েছেন কোচ। অপটা সুপার কম্পিউটারের তথ্যমতে, আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৭৭.৯ শতাংশ। এর বাইরে চলতি বিশ্বকাপে মাঠের খেলার চেয়েও একটি বিষয় নজর কাড়ছে—তা হলো খেলোয়াড়দের জুতোর রঙ। কিলিয়ান এমবাপে, ভিনিসিউস জুনিয়র কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের পায়ে দেখা যাচ্ছে উজ্জ্বল গোলাপি রঙের বুট। মূলত আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন এবং মাঠে আলাদাভাবে দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যেই এমন রঙের জুতোর ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গত ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ থেকেই প্রথাগত কালো-সাদা বুটের বাইরে রঙিন ফুটওয়্যারের যে চল শুরু হয়েছিল, এবারের বিশ্বকাপে তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।