বোস্টনকে বিদায় করে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠল সিক্সার্স, নিক্সের মুখোমুখি ফিলাডেলফিয়া

ফিলাডেলফিয়া সিক্সার্স এনবিএ প্লে-অফের প্রথম রাউন্ডে বড় চমক সৃষ্টি করে শক্তিশালী বোস্টন সেল্টিকসকে বিদায় করেছে। সিরিজের সপ্তম ও নির্ধারণী ম্যাচে শনিবার ১০৯-১০০ ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে ফিলাডেলফিয়া। এখন তারা তৃতীয় বাছাই নিউইয়র্ক নিক্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ড সিরিজ শুরু করবে।
জোয়েল এমবিড ৩৪ পয়েন্ট, ১২ রিবাউন্ড এবং ৬টি অ্যাসিস্ট করেন। টাইরেস ম্যাক্সি যোগ করেন ৩০ পয়েন্ট ও ১১ রিবাউন্ড। এই দুই তারকার দারুণ পারফরম্যান্সে সিক্সার্স টানা তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয়।
প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচে হারের পর শেষ তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ উল্টে দেয় ফিলাডেলফিয়া। ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতিহাসে প্রথমবার ৩-১ ব্যবধানের ঘাটতি কাটিয়ে সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ল সিক্সার্স। এনবিএ ইতিহাসে এটি এমনভাবে ঘুরে দাঁড়ানো ১৪তম দল।
ম্যাচ শেষে সিক্সার্স কোচ নিক নার্স বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে খেলাটা তারা ভালোভাবেই সামলেছেন। তার মতে, এমন অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বোস্টন কোচ জো মাজুল্লা বলেন, সিরিজে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে এমবিডের ফিরে আসায়। তার ভাষায়, এমবিড ফেরার পর ফিলাডেলফিয়া পুরোপুরি ভিন্ন দলে পরিণত হয়েছে।
টেক্সাস সফরের সময় জরুরি অ্যাপেন্ডেক্টমি করানোর কারণে ৬ এপ্রিলের পর মাঠের বাইরে থাকা এমবিড শেষ তিন ম্যাচে খেলেন। তার প্রত্যাবর্তনই সিরিজের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাচের শেষ ভাগে বোস্টন ৯৯-৯৮ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল। তখন নিমিয়াস কুয়েটার দুটি ফ্রি থ্রোয়ের পর ম্যাক্সি টানা আট পয়েন্ট এনে ফিলাডেলফিয়াকে ১০৭-৯৮ ব্যবধানে এগিয়ে দেন, খেলা শেষ হতে তখন বাকি ছিল ১৫ সেকেন্ড।
ফিলাডেলফিয়ার রুকি ভিজে এজকম্ব ২৩ পয়েন্ট করেন। পল জর্জ করেন ১৩ পয়েন্ট। বেঞ্চ থেকে সিক্সার্স পায় মাত্র ৩ পয়েন্ট, যার সবকটিই আসে কুয়েন্টিন গ্রিমসের কাছ থেকে।
বোস্টনের জেসন টাটাম বাম হাঁটুর শক্তভাবের কারণে খেলতে পারেননি। বাম পায়ের চোটের কারণে তিনি গেম ৬-এর তৃতীয় কোয়ার্টারে মাঠ ছাড়েন।
চলতি মৌসুমের প্লে-অফে ছয় ম্যাচে টাটাম গড়ে ২৩.৩ পয়েন্ট ও ১০.৭ রিবাউন্ড করেছিলেন। নিয়মিত মৌসুমে ১৬ ম্যাচে তার গড় ছিল ২১.৮ পয়েন্ট ও ১০ রিবাউন্ড।
বোস্টনের পক্ষে জেলেন ব্রাউন ৩৩ পয়েন্ট ও ৯ রিবাউন্ড করেন। ডেরিক হোয়াইট করেন ২৬ পয়েন্ট। কুয়েটা বেঞ্চ থেকে ১৭ পয়েন্ট ও সর্বোচ্চ ১২ রিবাউন্ড সংগ্রহ করেন। পেটন প্রিচার্ড ১৩ পয়েন্ট এবং স্যাম হাউস ১১ পয়েন্ট যোগ করেন। তবে স্টার্টার বেলর শিয়ারম্যান, লুকা গারজা ও রন হার্পার জুনিয়র স্কোর করতে ব্যর্থ হন।
সেল্টিকস তিন পয়েন্টে ৪৯ শটের মধ্যে ১৩টি এবং ফিল্ড গোলে ৯৩ শটের মধ্যে ৩৭টি সফল করে। অন্যদিকে সিক্সার্স তিন পয়েন্টে ২৮ শটের মধ্যে ১১টি এবং ফিল্ড গোলে ৮২ শটের মধ্যে ৩৯টি সফল করে।
ম্যাচের শুরুতেই ফিলাডেলফিয়া টানা ৯ পয়েন্ট তুলে নেয়। প্রথম কোয়ার্টারে ১ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড বাকি থাকতে এমবিডের জাম্পারের পর সিক্সার্স ৩০-১৫ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এক কোয়ার্টার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩২-১৯।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারে বোস্টন প্রথম ২২ পয়েন্টের মধ্যে ১৮ পয়েন্ট আদায় করে নেয়। প্রথমার্ধে ৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ড বাকি থাকতে প্রিচার্ডের তিন পয়েন্টারের পর তারা প্রথম ও একমাত্রবারের মতো ৩৭-৩৬ ব্যবধানে লিড নেয়। তবে ফিলাডেলফিয়া দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে বিরতিতে ৫৫-৫০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
তৃতীয় কোয়ার্টারে এজকম্বের তিন পয়েন্টারের পর সিক্সার্স ৮৪-৬৬ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তিন কোয়ার্টার শেষে তাদের লিড দাঁড়ায় ৮৮-৭৫।
চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতে বোস্টন ১৬-৪ রানের ঝড় তুলে ব্যবধান এক পয়েন্টে নামিয়ে আনে। তখন স্কোর ছিল ৯২-৯১। কিন্তু শেষ দিকে ফিলাডেলফিয়া আবার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং জয় নিশ্চিত করে।
নার্স বলেন, শেষ তিন মিনিটে তাদের রক্ষণভাগই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। মাজুল্লা বলেন, তারা যে সুযোগগুলো পেয়েছিলেন তা ভালো ছিল, কিন্তু ফলাফল মেনে নেওয়া কঠিন।