জ্যাকবস-ক্লার্কসনে নিউজিল্যান্ডের সিরিজ সমতার রুদ্ধশ্বাস জয়

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে ডার্কওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৬ উইকেটে হার মেনেছে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফিফটি হাঁকিয়ে কিউইদের সহজ জয় এনে দিয়েছেন বেভন জ্যাকবস। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২০ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সফরকারীরা।
টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। কিউই বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথম তিন ওভার বেশ কঠিন ছিল বাংলাদেশের জন্য। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা জেডেন লেনক্স তার প্রথম বলেই সাজঘরে পাঠান ওপেনার সাইফ হাসানকে। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলার ইঙ্গিত দেন লিটন দাস, হাঁকান একটি চার ও একটি ছক্কা। কিন্তু নাথান স্মিথের টানা দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন আউট হলে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে টাইগাররা।
পাওয়ারপ্লেতে আর কোনো উইকেটের পতন হয়নি, এই পর্ব শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৪৩ রান। তবে সপ্তম ওভারের চতুর্থ বল গড়াতেই শুরু হয় বৃষ্টি। মাঠ খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দীর্ঘক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে।
প্রায় দুই ঘণ্টা বিরতির পর ম্যাচটি ১৫ ওভারে কমিয়ে আনা হয়। এরপর মাঠে ফিরে তৌহিদ হৃদয় একটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। তবে জশ ক্লার্কসনের প্রথম ওভারেই ২৬ রান করা লিটন দাস বিদায় নেন। হৃদয় একপ্রান্ত আগলে রাখলেও রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টায় শামীম হোসেন ইশ সোধির ফুলটসে আউট হন। ক্লার্কসন ১৩তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন, তার বলে ৩৩ রান করা হৃদয়ও ফেরেন সাজঘরে।
এরপর দ্রুত রান নিতে গিয়ে রানআউটের শিকার হন রিশাদ হোসেন। শেষদিকে বেন সিয়ার্স লেজের দিকের ব্যাটসম্যানদের ফিরিয়ে দিলে ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। কিউই বোলারদের মধ্যে জশ ক্লার্কসন ৯ রানে ৩টি এবং বেন সিয়ার্স ১২ রানে ২টি উইকেট শিকার করেন।
১৫ ওভারে ১০৩ রানের ডিএলএস-সংশোধিত লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। শরিফুল ইসলাম দ্বিতীয় ওভারেই জোড়া উইকেট তুলে নেন, ফেরান ক্যাটেন ক্লার্ক ও ডেন ক্লেভারকে, দুজনেই ১ রান করে করেন। এরপর রিপন মন্ডলকে একটি ছক্কা ও একটি চার মেরে স্বাগত জানান টিম রবিনসন, তবে কিছুক্ষণ পরই শরিফুলের বিধ্বংসী বলে ২৩ রান করা তিনিও বোল্ড হন। ৪.৩ ওভারের পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার পরপরই কিউই অধিনায়ক নিক কেলিকে ফেরান মেহেদী হাসান। ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা তখন বেশ চাপেই ছিল।
তবে পঞ্চম উইকেটে ব্যাট করতে আসা বেভন জ্যাকবস পাল্টে দেন ম্যাচের চিত্র। তিনি শরিফুলকে পরপর দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। এরপর রিশাদ হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে সিঙ্গেল নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন। শেষ সাত ওভারে কিউইদের প্রয়োজন ছিল ওভারপ্রতি মাত্র ১ রান করে।
রিশাদকে একটি বাউন্ডারি মারার পর জ্যাকবস মন্ডলের ওভারে একটি ছক্কা হাঁকান এবং দ্রুত গতিতে রান নেন, ওই ওভার থেকে আসে ১৪ রান। মেহেদী হাসানের বলে নিজের বোলিংয়ে জ্যাকবসের ক্যাচ ফস্কানোই যেন ম্যাচের ভাগ্য লিখে দেয়। এরপর ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান রিশাদকে ৬, ৪, ৬ মেরে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং অপরাজিত ৬২ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলে ২০ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে দলের জয় নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল ইসলাম ১৯ রানে ৩টি উইকেট নেন।