শরীয়তপুরে দীর্ঘ ১৮ বছর পর শিকলমুক্ত বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শুকুম আলী, চিকিৎসার দায়িত্ব নিল উপজেলা প্রশাসন

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের জালিয়াহাটী গ্রামের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শুকুম আলী চৌকিদার দীর্ঘ ১৮ বছর পর শিকলমুক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

শুক্রবার বিকেলে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইউম খানের তত্ত্বাবধানে শুকুম আলীর পায়ের শিকল খুলে তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সযোগে ঢাকায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জন্ম থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শুকুম আলী দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের তত্ত্বাবধানে শিকলবন্দী অবস্থায় জীবনযাপন করছিলেন। প্রায় ১৮ বছর ধরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁকে এভাবে আটকে রাখতে বাধ্য হন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়। সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও আব্দুল কাইউম খান শুকুম আলীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

শুকুম আলীর ভাই লোকমান চৌকিদার বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। অনেক বছর ধরে ভাইকে দেখাশোনা করছি। একবার সে হারিয়ে গিয়েছিল। পরে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাকে বেঁধে রাখতে হয়েছিল। প্রশাসন এগিয়ে আসায় আমরা খুব খুশি। এখন যদি ভালো চিকিৎসা পায়, তাহলে আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমবে।”

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শুকুম আলীর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যয় সরকারি ব্যবস্থাপনায় বহন করা হবে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলবে।

এ বিষয়ে ইউএনও আব্দুল কাইউম খান বলেন, “শুকুম আলীর বিষয়টি জানার পরপরই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। তাঁর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য যা যা প্রয়োজন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের আশা, দীর্ঘদিনের শিকলবন্দী জীবন শেষে যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে শুকুম আলী আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।

০%
০%
০%
০%