রাশেদ খান বলেছেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-এর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক ভাষা দেখে তার কাছে মনে হয়েছে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ এবং এক ধরনের নেশার মধ্যে নিমগ্ন রয়েছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাশেদ খান এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আমার কাছে মনে হয়েছে, তিনি নিজেই মানসিকভাবে অসুস্থ এবং নেশায় এক ধরনের নিমগ্ন হয়ে আছেন। কোনো সুস্থ মানুষ এভাবে কথা বলতে পারে বলে আমার মনে হয় না।”
রাশেদ খান বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যে ভাষায় রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন, তা কোনোভাবেই রাজনৈতিক শালীনতার মধ্যে পড়ে না।
তার ভাষায়, “আমি দেখলাম, তিনি সম্প্রতি তার একটি বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এমন ভাষায় আক্রমণ করেছেন, এমনকি নামটিও সঠিকভাবে উচ্চারণ করেননি। আমার কাছে মনে হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো তার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট—এমন ভঙ্গিতে তিনি কথা বলেছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর মন্তব্য করেছেন।
রাশেদ খান বলেন, “তিনি বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাঁজার ব্যবসা করেন। অথচ তিনি একজন আইনজ্ঞ এবং রাজনৈতিকভাবে ক্লিন ইমেজের মানুষ। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যাচার অত্যন্ত দুঃখজনক।”
প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন রাশেদ খান।
তিনি বলেন, “তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণীকে নিয়ে কথা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কন্যাকে নিয়েও কথা বলেছেন। এ ধরনের কথা-বার্তা কোনো সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষের সঙ্গে যায় না।”
রাশেদ খানের দাবি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আচরণ ও বক্তব্যে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছেন।
তার ভাষায়, “আমার কাছে মনে হয়েছে, তার চিকিৎসার প্রয়োজন। তার শরীরে হয়তো অনেক বেশি নিকোটিন জমে গেছে, আর সেই প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ ধরনের আবোল-তাবোল কথা বলছেন।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অতীত বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, একসময় জামায়াত সম্পর্কে কঠোর সমালোচনা করলেও পরে সেই দলের কাছ থেকেই আসন সমঝোতা নিয়ে নির্বাচন করেছেন তিনি।
রাশেদ খান বলেন, “একসময় তিনি জামায়াতকে ভারতের এক্সটেনশন বলেছেন, মুনাফেকের দল বলেছেন, ধর্মের নামে ব্যবসা করার অভিযোগ তুলেছেন। পরে সেই দলের কাছ থেকেই আসন ভাগাভাগি করে নির্বাচন করেছেন। একজন ব্যক্তি কতটা নৈতিকতাবর্জিত হলে এমনটা করতে পারেন, সেটি প্রশ্নের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কটূক্তি করছেন এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিয়েও অশালীন ভাষায় মন্তব্য করছেন।
রাশেদ খান বলেন, “রাজনৈতিক সমালোচনা করা যায়, আমরাও করি। কিন্তু সমালোচনার ভাষা যদি এতটা জঘন্য হয়, তাহলে তাকে রাজনীতিবিদ বলা যায় না।”
শেষে তিনি বলেন, “নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন পলিটিক্যাল জোকার। আমি এনসিপির প্রতি আহ্বান জানাবো—তার মানসিক সুস্থতার প্রয়োজন, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করুন এবং তার ডোপ টেস্ট করান। কারণ কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এভাবে কথা বলতে পারে না।”