বলিউডের আকর্ষণীয় অঙ্গনে এখন তীব্র আইনি ঝড়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত এক রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে চরম প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ইমরান খান। রবিবার, এফআরআরও বা ফরেনার্স রিজিনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের তরফ থেকে এই তারকার ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া বা ওওসিআই কার্ড কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি কড়া কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী পনেরো দিনের মধ্যে তাঁকে এই নোটিশের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
দিল্লিভিত্তিক সিজেপির অ্যান্টি-সিইসি আন্দোলনের সমর্থনে আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের ওই জমায়েতে উপস্থিত থাকার জন্যই মূলত এই আইনি পদক্ষেপ। তবে এফআরআরও সূত্রে জানা গেছে, নিছক এফআইআর রুজু হওয়া বা সাময়িকভাবে আটক হওয়াই ওওসিআই কার্ড বাতিলের চূড়ান্ত ভিত্তি নয়। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের অধীনে যেকোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আগে অভিনেতাকে নিজের পক্ষ সমর্থনের সম্পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ১৪ অক্টোবর মুম্বই পুলিশের কাছে করা এক প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিনেতা ইমরান খানকে প্রথম ভারত ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর ধারা ৭ এবং ২৯ উল্লেখ করে ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন অভিনেতা আগামী ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখের মধ্যে ভারত ত্যাগ করেন।
এই প্রশাসনিক নির্দেশের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বম্বে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছেন ইমরান খান। আইনি লড়াইয়ে তাঁর দাবি, কোনো রকম কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে এবং কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ছাড়াই এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমেরিকান নাগরিকত্ব এবং ওওসিআই কার্ডধারী এই অভিনেতার ভাগ্যে কী রয়েছে, তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে বম্বে হাইকোর্টের বিচারাধীন এই মামলার রায়ের ওপর।