ভিডিওতে প্রেমিককে দায়ী করে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

যশোরের শার্শা উপজেলায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্বামীর বাড়িতে বিষপান করে চম্পা খাতুন (৩০) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রেমিকসহ দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের ধান্যতাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নিহতের ভাই বাদী হয়ে শার্শা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। নিহত চম্পা খাতুন ধান্যতাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মিন্টু গাজীর স্ত্রী এবং ভবানীপুর গ্রামের মৃত আহাদ আলীর মেয়ে। তাদের সংসারে ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী কন্যা এবং ৬ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে ধান্যতাড়া গ্রামের মৃত সাইফুল্লাহ গাজীর ছেলে মিন্টু গাজীর সঙ্গে চম্পা খাতুনের বিয়ে হয়। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় ৫ বছর আগে মিন্টু জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে ভবানীপুর গ্রামের মৃত নাজিমুদ্দিনের ছেলে কবির হোসেনের সঙ্গে চম্পার পরিচয় হয়, যা পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠ পরকীয়া সম্পর্কে রূপ নেয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ চার বছরের এই সম্পর্কের সুবাদে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কবির হোসেন চম্পার কাছ থেকে এবং তার প্রবাসীর স্বামীর পাঠানো সর্বমোট চার বছরের উপার্জনের অর্থ হাতিয়ে নেন। সম্প্রতি কবির তাকে বিয়ে করতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানান এবং সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এতে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন ওই গৃহবধূ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্বশুরবাড়িতে চম্পা বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে স্বজনদের খবর দেওয়া হলে তারা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগআঁচড়ার একটি স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুর আগে চম্পা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও বার্তা ধারণ করে গেছেন। ওই ভিডিওতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কবির হোসেনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা স্পষ্ট উল্লেখ করে বলেন, ‘সে আমার সব শেষ করেছে। আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র কবির দায়ী, আর কেউ নয়।’

এদিকে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, শনিবার রাতে তারা থানায় মামলা করতে গেলে আসামিপক্ষের লোকজন ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বাধার মুখে পড়েন। দীর্ঘ সময় ধরে দরকষাকষি ও নানা জটিলতার পর অবশেষে রবিবার দুপুর ১টার দিকে নিহতের ভাই তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শিক্ষক কবির হোসেনসহ কয়েকজনকে আসামি করে শার্শা থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা করেন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত কবির হোসেন তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সামান্য কিছু দিন বন্ধু হিসেবে তার সঙ্গে নিয়মিত কথা হলেও তিনি চম্পাকে কখনো কোনো বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেননি। কী কারণে চম্পা মৃত্যুর আগে তার নাম উল্লেখ করলেন, তা তার বোধগম্য নয় এবং সামান্য পরিচয়ের কারণে তিনি এখন অযথা বিপদে পড়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শার্শা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং গ্রেপ্তারে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে এই মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযুক্ত কবির হোসেনের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%