“ধর্মীয় অনুভূতি ও শহীদ ইস্যুতে রাজনীতি: এনসিপির বিরুদ্ধে রাশেদ খানের ফেসবুক পোস্টে ঝড়”

এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তার অভিযোগ, রাজনীতির নামে ধর্মীয় আবেগ ও শহীদদের স্মৃতিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে এনসিপি।

শনিবার (৯ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন, “রাজনীতির নামে ধর্মীয় ভণ্ডামি কখনোই নতুন রাজনীতি হতে পারে না।”

পোস্টে তিনি শহীদ ওসমান হাদির বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরে দাবি করেন, জীবিত অবস্থায় তিনি এনসিপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন এবং দলটির বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন।

রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসমান হাদি বলেছিলেন—“ঠিক ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ যেভাবে আওয়ামী লীগ কুক্ষিগত করেছে, এনসিপি সেভাবে জুলাইকে কুক্ষিগত করেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রশ্ন তুলে হাদি জানতে চেয়েছিলেন, “মাত্র ৮–১০ মাসের মধ্যে কীভাবে কোটি টাকার মালিক হওয়া সম্ভব?”

এছাড়া রাশেদ খান দাবি করেন, ওসমান হাদি অভিযোগ করেছিলেন যে এনসিপি জুলাই আন্দোলনের বৃহত্তর ঐক্য নষ্ট করেছে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শক্তিকে দুর্বল করেছে।

তার মতে, জীবিত অবস্থায় এনসিপির শীর্ষ নেতারা ওসমান হাদিকে এড়িয়ে চললেও, মৃত্যুর পর তাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

রাশেদ খান লেখেন, “শহীদ হওয়ার পর তিনি এনসিপির আইডল হয়ে গেলেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে তাকে সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কি সত্যিই ওসমান হাদির আদর্শ অনুসরণ করছেন, নাকি তাকে রাজনৈতিক “ট্রাম্প কার্ড” হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পোস্টে মসজিদে রাজনৈতিক প্রচারণার অভিযোগও তোলেন তিনি। রাশেদ খানের দাবি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জুমার নামাজে যাওয়ার আগে ফেসবুক পোস্ট ও গুগল ম্যাপ শেয়ার করে নেতাকর্মীদের সেখানে একত্র করেন।

তার অভিযোগ, “তিনি জনপ্রিয়তা দেখানোর জন্য পিআর টিম নিয়ে মসজিদে যাচ্ছেন এবং নেতাকর্মীদের জড়ো করছেন, যাতে দেখানো যায় মানুষ তাকে দেখতে ভিড় করছে।”

নারায়ণগঞ্জের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় হট্টগোল সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মুসল্লিরা বিরক্ত হন।

শেষে রাশেদ খান বলেন, “আমরা সবাই ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাই। কিন্তু যখন কোনো শহীদকে অতিমাত্রায় রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তখন তার সর্বজনীনতা নষ্ট হয়ে যায়।”

০%
০%
০%
০%